,

শূন্য থেকে হিরো হয়েছেন

news-image

রোমান আব্রামোভিচ
রোমান আব্রামোভিচ আলোচনায় আসেন ইংলিশ ফুটবল ক্লাব চেলসি কিনার পর। তার জন্ম ১৯৬৬ সালে। মাত্র তিন বছর বয়সে মা-বাবা দুজনকেই হারান। রাশিয়ার উত্তরে কোমি রিপাবলিক অঞ্চলে আত্মীয়ের কাছে বড় হন তিনি। সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাটানোর পর ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার উদ্দেশ্যে পড়াশোনা শুরু করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় মেকানিক হিসেবে। রাশিয়ায় ‘পেরেস্ত্রোইকা’ আমলে অর্থনৈতিক উদারীকরণের ফলে ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার সুযোগ ছিল। সে সময় শিশুদের খেলনা তৈরি করতেন। লোকশ্রুতি আছে, মস্কোয় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে বসে শিশুদের খেলনা প্লাস্টিকের হাঁস তৈরি করতেন তিনি।

রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রের অবসানের পর তেল ও অন্যান্য শিল্পজাত পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন আব্রামোভিচ। তার ঈর্ষণীয় সম্পত্তি ভাগ্যের পেছনে বড় ভূমিকা আছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সিবনেফট’, বর্তমানে গাজপ্রম নেফটের। অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আগে থেকেই টাকা-পয়সা ভালোই ছিল তার পকেটে।

১৯৯৫ সালের আগস্টে এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে ‘সিবনেফট’ প্রতিষ্ঠা করেন ইয়েলৎসিন। তখন আব্রামোভিচের বয়স মাত্র ২৯ বছর। পর পর বেশ কয়েকটি নিলামের মাধ্যমে এই বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানটি আব্রামোভিচের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে কারও কারও দাবি, নিলামের দর নিয়ে কারচুপি এবং অন্য নিলামকারীদের বিভিন্ন উপায়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আব্রামোভিচ ২৪০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে সিবনেফটের ৯০ শতাংশ কেনেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে বেরেজোভস্কি ছিলেন তার জন্য আদর্শ ব্যক্তি। রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ঘোরবিরোধী ছিলেন বেরেজোভস্কি। তিনি তৎকালীন রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনকে আব্রামোভিচের আইডিয়া জানান। প্রস্তাবটি ছিল এ রকম- সরকার আব্রামোভিচ-বেরেজোভস্কির কাছে ‘সিবনেফট’ পরিচালনার ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, বিনিময়ে বেরেজোভস্কি সেখান থেকে পাওয়া আয় দিয়ে একটি ইয়েলৎসিনপন্থি প্রোপাগান্ডা টিভি স্টেশন প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এর পেছনে তার নিজের সম্পদ থেকে ব্যয় করতে হয়েছে মাত্র ১৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার!

২০০৩ সালে রাশিয়ার অ্যালুমিনিয়াম শিল্প খাতে একটি মোটা অঙ্কের লেনদেন করেন রোমান আব্রামোভিচ। রাশঅ্যাল অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানির ২৫ শতাংশ শেয়ার ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে আরেক শিল্পপতি ওলেগা দেরিপাসাকার কাছে বিক্রি করে দেন তিনি। পরে আরও ২৫ শতাংশ বিক্রি করেন ৫৪০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে। ২০০৫ সালে তার কোম্পানি সিবনেফটের ৭৩ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম। এর বিনিময়ে রুশ ধনকুবেরের হাতে চলে আসে ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার! এর আগে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি লাভ করেন ইংলিশ ফুটবল ক্লাব চেলসি কেনার মাধ্যমে। ২০০৩ সালে এ ক্লাবটির মালিকানা চলে আসে তার হাতে। শূন্য থেকে নিজের মেধা কাজে লাগিয়ে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন। এসব তার পরিশ্রমেরই ফল বলে মনে করেন তিনি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না