,

জোয়ারে প্লাবিত ৫৫ গ্রাম, পানিবন্দি হাজারো পরিবার

news-image

নিউজ ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার এক দিন পর গতকাল মঙ্গলবার তা সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়েছে। আর এই নিম্নচাপ ও লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল রয়েছে সাগর। একই সঙ্গে পূর্ণিমার তিথির কারণে সাগরের জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেড়ে উপকূলবর্তী নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় জেলাগুলোতে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, পূর্ণিমা ও নিম্নচাপের প্রভাবে বেড়েছে নদ-নদীর পানি। এতে উপকূলবর্তী এলাকাগুলোর অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার।

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গত সোমবার রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরেছে। কোনো কোনো এলাকায় সারা দিনেও থেমে থেমে ঝিরঝির বৃষ্টি হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়াও টানা বৃষ্টিতে তলিয়েছে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ পৌরশহর। আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

দুদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার তিনটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টির পানি জমে ওইসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। এসব পরিবারে রান্না ও খাওয়ার দারুণ অসুবিধা হচ্ছে। তারা ভৈরব নদের ওপর টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলে জোয়ারের পানি উঠে জেলার উপকূলীয় সদর, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। এসব এলাকার মানুষ তাদের বেড়িবাঁধের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওইসব এলাকায় খুব শিগগিরই নদীতীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

জেলার চিংড়ি মাছের ঘেরগুলোতে পানি ছুঁইছুঁই করছে। বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীতে জোয়ারের পানির চাপ অব্যাহত থাকলে মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে মৎস্য বিভাগ। তবে এই বৃষ্টিতে চলতি রোপা আমন ধানের উপকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো উচ্চ জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা ও করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি তলিয়ে গেছে।

পটুয়াখালীতে নিম্নাঞ্চলসহ ৫০ গ্রাম জোয়ারে প্লাবিত: টানা চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট উঁচু জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চলসহ চরাঞ্চল। বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া, গলাচিপার অন্তত ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দৈনিক দু’দফা জোয়ারে প্লাবিত হচ্ছে এসব এলাকা। ভেসে গেছে এসব এলাকার তিন শতাধিক ঘেরের মাছ। আমন ধানের ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে অন্তত ৪শ’ কৃষক।

বৈরী আবহাওয়ায় কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা কয়েক হাজার পর্যটক। তাদের সৈকতে সাঁতার না কাটাসহ নিরাপদে চলাচলের পরামর্শ দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে গভীর সাগর থেকে ফিরে আসা মাছ ধরার সহস্রাধিক ট্রলার নোঙর করে আছে দেশের বৃহৎ সামুদ্রিক মাছের বাজার আলীপুর-মহীপুরে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এদের সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে কোস্ট গার্ড।

বগুড়ায় ডুবল পৌর শহর: বগুড়ায় গতকাল ভোর ৫টা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড বলে জানা গেছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে পৌর এলাকার সড়কগুলো ডুবে যায়। এ ছাড়া পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চলগুলোও ডুবেছে। বৃষ্টিতে পৌর এলাকার ডুবে যাওয়া সড়কে কিশোররা মাছ ধরায় মেতে ওঠে।

কমলগঞ্জে জলাবদ্ধ ৩০ পরিবারের ভোগান্তি: দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় থাকা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমসের নগরের ৩০টি পরিবারের মানুষজন গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টির ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের ফলে নালার পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় গত মার্চ মাস থেকে শমসেরনগর খাদ্য গুদাম-পশ্চিম বাজার বাইপাস সড়ক পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। পানিতে নিমজ্জিত থাকায় এ পথে কোনো যান চলাচল করছে না।

সিরাজগঞ্জ শহরের সড়কে হাঁটু পানি: গতকাল দিনভর টানা বর্ষণে সিরাজগঞ্জ শহরের এসএস রোডসহ একাধিক সড়কে বৃষ্টির পানি জমে হাঁটু পর্যন্ত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া এসব রোডের দুই পাশের অধিকাংশ নিচু দোকান ও বাড়ির উঠান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। ফলে অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া সড়ক দিয়ে পথচারী, রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। সোমবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে সাধারণ মানুষ গতকাল প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হয়নি। বিশেষ করে বিপাকে পড়েছে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

আনোয়ারায় দুই কিলোমিটার বাঁধের জন্য আকুতি: জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। বেড়িবাঁধ না থাকায় গত কয়েক দিন ধরে ওই ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানুষ মারা গেলে সেখানে দাফনের জায়গাটুকুও অবশিষ্ট নেই অনেক পরিবারের।

জানা গেছে, শিকলবাহা খালের কর্ণফুলী অংশের বেড়িবাঁধের প্রায় কাজ সম্পন্ন হলেও অরক্ষিত রয়ে গেছে ভেল্লাপাড়া সেতু থেকে কালারপোল সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার অংশ। এই অংশ দিয়ে প্রতিবছর কয়েকবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় ওই গ্রামের হাজারের বেশি পরিবার।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না