,

হামলার শিকার বাদীকেই করা হলো প্রধান আসামি

news-image

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের জোয়ারসাহারা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৩ আগস্ট সকালে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন অন্তত ১০ জন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ওই দিনই নয়জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা আরও ৮০ হামলাকারীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে মামলা (নম্বর-১০) নেয় ক্যান্টনমেন্ট থানাপুলিশ।

তবে রহস্যজনক কারণে মামলাটির তদন্ত চলাকালে একই ঘটনায় পাল্টা হামলার অভিযোগে আরেকটি মামলা নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার ছয় দিন পর গত শনিবার দায়ের হওয়া এই মামলায় (নম্বর-১৪) এবার আসামি করা হয়েছে আগের মামলার বাদী স্বপ্না আক্তারসহ ছয়জনকে। পরের মামলার বাদী হয়েছেন আগের মামলার ৫ নম্বর আসামি ঝর্ণা বেগম। তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলা নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। দুই মামলার বাদীই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে তাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে জানান আমাদের সময়কে। যদিও একই ঘটনায় দুটি মামলা হওয়া এবং বাদীকেই আসামি হিসেবে গ্রহণ করে মামলা নেওয়ায় গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর আদালতের (৩৪ নম্বর কোর্ট) ম্যাজিস্ট্রেট বিস্ময় প্রকাশ করেন। সব শুনে আদালত ১৪ নম্বর মামলার সব আসামিকে স্থায়ী জামিন দেন।

সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে ১০ নম্বর মামলার বাদী স্বপ্না আক্তার আমাদের সময়কে বলেন, ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন জোয়ারসাহারা এলাকায় তার কাকি রাকিবা বানুর ৭৮.৯৫ শতাংশ জমি ছিল। ওই দাগে জমির মালিক তিনি নিজেও। গত ১৩ আগস্ট সকালে ওই জমিতে ঢুকে স্থানীয় সন্ত্রাসী নুরুজ্জামান, বিল্লাল, বাদল, হাবিবুর রহমান, ঝর্ণা (১৪-নম্বর মামলার বাদী), অপু, কবির, বাবু, পারভেজসহ অচেনা আরও ৭০ থেকে ৮০ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় নির্মাণকাজের ঠিকাদার মো. আরব আলীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। আরব আলীকে ছুরিকাঘাতও করা হয়। চাপাতি দিয়ে আরেকজনকে কোপানো হয়। স্বপ্না আক্তার তাদের বাঁচাতে গেলে তাকেও বেধড়ক পেটানো হয়। ওই ঘটনায় স্বপ্না আক্তার মামলা দায়ের করেন।

স্বপ্না আক্তার বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের হাতে মার খেলাম আমরা। পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আমার মামলাও নিল। একে একে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করল। ঝর্ণা বেগম চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী; তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করেন। একাধিক মাদক মামলার আসামি ঝর্ণা বেগমকে র‌্যাব-পুলিশ বেশ কয়েকবার মাদকসহ গ্রেপ্তারও করেছে; কিন্তু সন্ত্রাসী হামলার শিকার হাওয়া আমাদের বিরুদ্ধেই পুলিশ ঘটনার কয়েক দিন পর মামলা নিয়েছে। পুলিশ আমার দায়ের করা মামলার আসামিকেই বাদী করে মামলা নিল! সন্ত্রাসী বানিয়ে দেওয়া হলো আমাদেরকেই। এটা সাজানো মামলা; যা আইনের সঙ্গে প্রহসনের সামিল। আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কিংবা সোর্সকে বাঁচাতে সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে পুলিশ আমাদের বিরুদ্ধে এই মামলা নিয়েছে বলে আমার বদ্ধমূল ধারণা।’

অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে গতকাল ১৪ নম্বর মামলার বাদী ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করি; কিন্তু কোনো মাদকের সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমার বিরুদ্ধে আগে যে মামলা হয়েছেÑ জমির বিরোধ কেন্দ্র করে আমার ভাই আমাকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়েছে। স্বপ্না আক্তার বা অন্যদের আমি চিনি না। ঘটনার দিন (গত ১৩ আগস্ট) আমি বাস থেকে নামতেই দেখি রাস্তার মধ্যে দুই পক্ষের তুমুল মারামারি চলছে। এর মাঝে আমি পড়ে যাই। দুই পক্ষের সংষর্ষের মধ্যে পড়ে মারধরের শিকার হয়ে আহতও হই। তা হলে আমাকে কেন মামলায় ফাঁসানো হলো? আমি মামলা করতে চাইনি। জামিনে আসার পর ক্যান্টনমেন্ট থানায় যাওয়ার পর পুলিশ আমাকে মামলা করতে বললে স্বপ্না আক্তারসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা দেই।’ পুরো ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন ঝর্ণা বেগম।

১০ নম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই কামরুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। অন্য দিকে ১৪ নম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই মো. আজিজুল হক গতকাল আমাদের সময়কে জানান, প্রভাব কিংবা টাকার বিনিময়ে ১৪ নম্বর মামলা গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া। যে কেউ নিজেকে ভিকটিম হিসেবে দাবি করে থানায় এসে আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করবেÑ এটাই স্বাভাবিক। এই ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রথম মামলার বাদীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তার মামলা গ্রহণ করার কদিন পর সেই বাদীকেই আসামি করে তার বিরুদ্ধে আগের মামলার আসামির পক্ষে মামলা নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? জানতে চাইলে কৌশলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। তদন্তের পরই সব খোলসা হবে।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না