,

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে অগ্রগতি হতে পারে

news-image

আরিফুজ্জামান মামুন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন সফরের আগে আগামী ২৫ আগস্ট যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। দীর্ঘ ১২ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে অভিন্ন নদী বণ্টনের ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে এবারও আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। এদিকে জেআরসির বৈঠকে ৬টি নদীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

জেআরসির মন্ত্রী পর্যায়ের ৩৮তম বৈঠকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বাংলাদেশের ও ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী গজেন্দ্র কুমার সেখাওয়াত তার দেশের নেতৃত্ব দেবেন। সূত্র জানায়, ভারতের পক্ষ থেকে ২৪ আগস্ট জেআরসির মন্ত্রী পর্যায়ের এবং ২৩ আগস্ট সচিব পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জুলাই মাসের দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের দেওয়া ওই প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনার পর এখন ২৩ আগস্ট সচিব ও ২৫ আগস্ট মন্ত্রীদের বৈঠক চূড়ান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেটের আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল উজানের পাহাড়ি ঢলে। তাই সেখানকার বন্যার পূর্বাভাস বাংলাদেশকে আগাম জানানো ও বাঁধগুলো উন্মুক্ত করার আগে বাংলাদেশকে অবহিত করার কথাও ভারতকে প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ভারত নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। নদী কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জেআরসির বৈঠকে আসাম থেকে বাংলাদেশে আসা কুশিয়ারা নদী নিয়ে একটি সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গঙ্গা নিয়েও বড় চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে একটি কূটনৈতিক সূত্র। ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তি সই হয়। ২০২৬ সালে এর মেয়াদ শেষ হবে। দুই দেশই এখন এই চুক্তির মেয়াদ আরও বৃদ্ধিতে আগ্রহী। এ ইস্যুও আগামী বৈঠকগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। জলযান পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ এবং নদীদূষণ হ্রাস নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কথা রয়েছে।

এ ছাড়াও মানু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা এবং দুধকুমার নদীতে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা জোরদার করা হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন ৫৪টি নদী রয়েছে। বাংলাদেশ এসব নদীর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে আরও তথ্য চায়। দেশের মধ্যে মৎস্য পরিকল্পনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেআরসি বৈঠকে বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নদীর তথ্য আদান-প্রদানের সময়কাল বৃদ্ধি পেতে পারে।

তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তিতে আসার জন্য বাংলাদেশের তরফ থেকে প্রবল চাপ থাকলেও বৈঠকে তিস্তা নিয়ে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা সত্ত্বেও ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এবং ২০২১ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় বিষয়টির সমাধান আসেনি। যদিও বাংলাদেশ তরফে ভারতের সব পর্যায়ের যোগাযোগেই তিস্তা চুক্তির গুরুত্বের কথা জানিয়েছে।

সর্বশেষ ২০১০ সালে জেআরসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশই এবার এই বৈঠকের আহ্বান জানায়। এ সময়ের মধ্যে যদিও দুই দেশের মধ্যে বেশকিছু নদী সম্পর্কিত আলোচনা হয়েছে। তবে সেগুলোকে একটি সুসঙ্গত আকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। জেআরসি এজন্য উপযুক্ত একটি প্ল্যাটফরম। এর আসন্ন বৈঠকে মূলত ইতিবাচক দিকেই ফোকাস দেওয়া হবে এবং তিস্তা ছাড়াও অন্য আন্তঃসীমান্ত নদীর বিষয়েও আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, আমরা দেশের সব ক’টি নৌপথ আগের মতো সচল করতে চাই; সেই বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, বন্যার পূর্বাভাস বাংলাদেশকে আগাম জানানো ও বাঁধগুলো উন্মুক্ত করার আগে বাংলাদেশকে অবহিত করার কথাও ভারতকে প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না