,

‘যারা অন্যের আনুকূল্যে টিকে থাকে তাদের দেশ শাসন করার অধিকার নেই’

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌত্বে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, যারা অন্যের আনুকূল্যে টিকে থাকে তাদের এ দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এবং জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং, গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোলায় পুলিশের গুলিতে নূরে আলম ও আব্দুর রহিমকে হত্যার প্রতিবাদে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ‘সরকার একদিকে যখন মেগা প্রজেক্টের কথা বলে বাহবা নিতে চায়; পদ্মা সেতুর ওপরে গিয়ে ছবি তোলে তখন তাদের মধ্যে আত্মতুষ্টির সৃষ্টি হয়। সেই আত্মতুষ্টির মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ উন্নয়নের শিখরে চলে গেছে। তারা বলতে শুরু করে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের সাধারণ মানুষ না খেয়ে থাকছে এবং দারিদ্র্যের সংখ্যা এখন শতকরা ৪২ ভাগ। একটা বিরাট অংশের মানুষ দুবেলা খেতে পায় না। এটা আমার কথা নয়, গবেষকদের কথা।’

তিনি বলেন, ‘আজকে একটা লুটেরা এলিট শ্রেণি ভালো আছে। এরা হচ্ছে- আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা পর্যন্ত; আমলা, আমি দুঃখের সঙ্গে বলতে চাই, আরও আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী শিক্ষক, কিছু বুদ্ধিজীবী। তারা যখন টকশোতে কথা বলেন, মনে হয় মোমেন সাহেব যে বলেছেন—বেহেশতে আছি এটা অমূলক কোনো কথা নয়। তারা প্রমাণ করতে চান আসলেও মানুষ বেহেশতে আছে। এক কথায় বলা যায়, এই সরকার হচ্ছে লুটেরাদের সরকার। এই সরকারের সঙ্গে মানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। এই সরকার এই রাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।’

সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তার প্রমাণ তারা একে একে দিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ যুদ্ধ করে নিজেদের স্বাধীন করেছে এবং নিজেদের স্বাধীন বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে তখন আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সরকারকে বলেন, সাহায্য করবেন শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য। অর্থাৎ তারা এ কথা বলতে চান যে, ভারত সরকারের আনুকূল্যে এই সরকার টিকে আছে। আমি গতকালকেও তাদের বলেছিলাম, এটা ব্যাখ্যা আমরা জানতে চাই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন্তু তার জায়গা থেকে সরে আসেননি। তিনি একটি বক্তব্য দিয়েছেন এবং সেই বক্তব্যে তিনি আবারও ওটাই নিশ্চিত করেছেন।’

‘সুতরাং আমাদের বুঝে নিতে হবে, পরিষ্কার ভাষায় বলতে হবে যারা অন্যের আনুকূল্যে টিকে থাকে তাদের এ দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই। তাদের এ দেশের সরকারে যাওয়ার কোনো অধিকার নেই’, বলেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সব কিছুর সংকটের মূলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগ জোর করে, বিনা ভোটে, নির্বাচিত না হয়ে শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা আজকে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে সরিয়েছিলাম, নব্বইয়ের অভ্যুত্থানে যেভাবে স্বৈরাচারকে সরানো হয়েছিল, এখন আমাদের দায়িত্ব জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ধ্বংসকারী এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে একটা সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সংগঠনের সভাপতি ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড.মোহাম্মদ মোর্শেদ হাসান খানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না