,

আগুন নেভাতে গিয়ে বিকট শব্দে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : কনস্টেবল তুহিন হোসেন। দেশের সেবা করার ব্রত নিয়ে বছর সাতেক আগে পুলিশে যোগ দেন। ২৭ বছরের টগবগে এই যুবকের সর্বশেষ কর্মস্থল ছিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানায়। গত শনিবার রাতে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে তিনি দায়িত্ব পালনকালেই ঘটে ভয়াবহ সেই অগ্নিকাণ্ড। হঠাৎ বিস্ফোরণে ডান পায়ের গোড়ালি উড়ে গেলেও আঁচ করতে পারেননি। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতেই অনেকটা পথ এক পায়ে খুঁড়িয়ে আসেন গেটের কাছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে একসময় জ্ঞান হারান। সহকর্মীরা দ্রুতই তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পায়ের প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের সময় বুঝতে পারেন উড়ে গেছে তার গোড়ালি। অবস্থার অবনতি হলে কনস্টেবল তুহিনকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল)। সেখানেই গত রবিবার নিচের অংশ কেটে ফেলে দিয়ে তার পা রক্ষা করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালের বিছানায় বিষণ্ন অবস্থায় দিনরাত কাটছে কনস্টেবল তুহিনের। গোড়ালি শূন্য ডান পায়ের নিচের অংশটি সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। এমন দুর্দিন আসবে, কখনো ভাবতেও পারেননি তুহিন। পঙ্গু হয়েই চলতে হবে জীবনের বাকিটা সময়। ভবিষ্যতের চিন্তায় কেবল অন্ধকার দেখছেন। তবে পঙ্গুত্ববরণ করলেও ছেলে তো বেঁচে আছে- তাতেই খুশি পুলিশ সদস্য তুহিনের বাবা লোকমান হোসেন। তাই কথার মাঝে বারবারই তিনি বিধাতার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন। লোকমান হোসেন জানান, তুহিনকে রবিবার ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে পঙ্গু হাসপাতালে আনা হয়। সেদিনই ডান পায়ের পাতাসহ গোড়ালি কেটে ফেলা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি এখন শঙ্কামুক্ত। তবে ইনফেকশনের আশঙ্কায় প্রতিদিনই ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করছেন চিকিৎসকরা।

ড্রেসিংয়ের সময় গতকাল দুপুরে ব্যথায় আর্তনাদ করছিলেন পুলিশ সদস্য তুহিন। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। ভাঙা কণ্ঠেই জানান, রাঙামাটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে এসএসসি পাস করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। ২১ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে তার। পরিবারে আরও আছেন মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই বোন। সেদিন রাতের বর্ণনা দিয়ে তুহিন জানান, সন্ধ্যার পর থেকে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে সহকর্মীদের সঙ্গে কর্মরত ছিলেন তিনি। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখেন। কিন্তু সেটি যে এমন ভয়াবহতার জন্ম দেবে ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি তারা। আগুন নেভাতে এগিয়ে যেতেই বোমা ফাটার মতো বিকট শব্দে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় অনেক মানুষ ছিল ডিপোর ভেতরে।

তুহিন জানান, বিস্ফোরণের পর কেমিক্যাল রক্ষিত নীল রঙের জারগুলো উড়ে উড়ে আসছিল বোমার মতো করে। গুলির মতো বিদ্ধ হচ্ছিল, অনেকের শরীর জ্বলছিল দাউ দাউ করে। বাঁচার জন্য আর্তনাদ করছিল সবাই। বিস্ফোরণে গুরুতর আহত তুহিনকে সঙ্গে থাকা এক এসআই ও দুজন পুলিশ সদস্য হাসপাতেলে নিয়ে যান। এরপর আর কিছুই মনে নেই তুহিনের। জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়। বুঝতে পারেন পায়ের নিচের অংশটি তার উড়ে গেছে।

কনস্টেবল তুহিন বলেন, ‘চট্টগ্রামের এসপি স্যার আমার সঙ্গে লোক পাঠিয়েছেন। সার্বক্ষণিক আমার খোঁজ রাখছেন। আইজি স্যার, কমিশনার স্যার আশ্বাস দিয়েছেন যে, তারা পাশে আছেন। সম্ভবমতো সব সহযোগিতাই করবেন। চিন্তা করতে না করছেন। হাসপাতালে আসার পর দুই পুলিশ সদস্য আমাকে দেখভালের জন্য সার্বক্ষণিক রয়েছেন। রবিবার দুই থানার দুই ওসি স্যার এসে আমার খোঁজ নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এত লাশের ভিড়ে কীভাবে বেঁচে গেছি, জানি না। সামনে একটি কনটেইনার না থাকলে হয়তো জীবন চলে যেত। নতুন জীবন পেলাম। এ জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া। এই দুর্দিনে স্যাররা যেভাবে আমার পাশে রয়েছেন, এ জন্য তাদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ। তবে পঙ্গু অবস্থায় ভবিষ্যৎ কীভাবে চলবে সেই চিন্তা জেঁকে বসেছে এখন।’

এদিকে পঙ্গু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল গনি মোল্লা জানান, পুলিশ কনস্টেবল তুহিনের পা থেকে গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাকে প্রথমে আইসিইউতে রাখা হয়। অপারেশনের পর তাকে স্থানান্তর করা হয় ওয়ার্ডে। সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা উন্নতির দিকে বলেও জানান তিনি।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না