,

সীতাকুণ্ড ট্রাজেডি: প্রিয়জনকে পেতে স্বজনদের অন্তহীন অপেক্ষা

news-image

তৈয়ব সুমন,চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভিড় করছেন অনেকেই। হাসপাতালে-হাসপাতালে খোঁজ করে না পেয়ে চমেক হাসপাতালের ডিএনএ বুথে নিজেদের নমুনা দিচ্ছেন নিখোঁজ স্বজনকে পাওয়ার আশায়।

আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নিহত ৪৯ জনের মধ্যে ২৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছে নগর পুলিশের সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ।

ঘটনার পর থেকে বিএম কনটেইনার ডিপো, চমেক হাসপাতালের মর্গ, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ, বেসরকারি আল আমিন হাসপাতাল, পার্ক ভিউ হাসপাতাল থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে খোঁজ করে না পেয়ে সকালে নিখোঁজ সোয়াইব উদ্দিনের (২২) খোঁজে তার বোন তৈয়বা সুলতানা ডিএনএ নমুনা বুথের সামনে আহাজারি করছেন।

তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমাদের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী প্রেমবাজার এলাকায়। ভাই সোবাইব বিএম কনটেইনার ডিপো হোটেলে ৫ বছর ধরে কাজ করেন। বিস্ফোরণের সময় সে ফেসবুকে লাইভে ছিল। এরপর তার ফোনে কল গেলেও এখন আর ফোন যাচ্ছে না। আমার স্বামীও একই ডিপোতে কাজ করে। কিন্তু সেদিন তিনি ছুটি নিয়ে বাসায় চলে আসেন।’

ডিএনএ নমুনা দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দিইনি। আমার আরেক ভাই নমুনা দিয়েছে।’

নোয়াখালী সদর উপজেলা থেকে ভাইয়ের খোঁজে এসেছেন আতিকুল আলম। তিনি বলেন,‘ আমার ভাই সৈয়দুল আলম (৪৫) এখানে কনটেইনার অপারেশন ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। সৈয়দুলের ফোনে এখনো ফোন যাচ্ছে। আমার ধারণা আমার ভাই বেঁচে আছে। না হলে তার ফোন চালু থাকবে কেন? ফোন নম্বরটি সিআইডিকে দিয়েছি।’

চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার সন্তান রনির হদিস চাই। আমি তার খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটছি। ওর মা না খেয়ে বাড়িতে পড়ে আছে। ছেলেকে না পেলে তাকেও বাঁচাতে পারবো না।’

এমনও আশা নিয়ে নগর পুলিশের সিআইডির ডিএনএ নমুনা বুথে হাজারো মানুষের ভিড়। সবাই তার স্বজনদের অপেক্ষায় আছেন। হয়তো জীবিত কিংবা মৃত পাবেন এই আশায়।

এদিকে নিহত ৪৯ জনের মধ্যে মাত্র ২৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন, কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের নাসিং অ্যাসিস্ট্যান্ট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ভোলার দক্ষিণ বালিয়ারা এলাকার হাবিবুর রহমান, প্রাণ গ্রুপের শ্রমিক রবিউল আলম, বাশঁখালী চনুয়ার মমিনুল হক, বাশঁখালীর মহিউদ্দিন, তোফায়েল আহমেদ, ফায়ার সার্ভিসের আলাউদ্দিন, নোয়াখালীর মুহাম্মদ সুমন, যশোরের ইব্রাহীম হোসেন, দাগনভুঁইয়া এলাকার শাহাদাত উল্লাহ মজুমদার, সীতাকুণ্ডের আফজাল হোসেন, মঠবাড়িয়ার ফারুল জমাদার, চট্টগ্রামের হালিশহরে মো. হারুন, মৌলভীবাজার এলাকার মো. নয়ন, রাঙ্গামাটির নিপন চাকমা, ফায়ার সার্ভিসের রানা মিয়া, রমজান আলী, রিদুয়ান মাহমুদ, তৌহিদ হোসেন, খুলনা ফায়ার সার্ভিসের শাকিল তরফদার, ফেনী সদর ফায়ার সার্ভিসের সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সবুজ, বাঁশখালী পুইঁছড়ি এলাকার নাজিম উদ্দিম রুবেল ও রাঙ্গামাটি এলাকার মিন্টু দেওয়ান।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান আমাদের সময়কে বলেন, গতকাল রোববার যেসব মরদেহ এসেছিল আজ সোমবার নতুন করে আর মরদেহ আসেনি। তবে নিখোঁজ যারা রয়েছেন তাদের তথ্য নেওয়া হচ্ছে। যাতে দ্রুত তাদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়।

তিনি বলেন, সিআইডি কাজ করছে। নিখোঁজ স্বজনদের ডিএন নমুনা নিচ্ছে। আশা করছি, আমরা দ্রুত শনাক্ত করতে পারবো। আর শনাক্তহীন মরদেহগুলো মর্গে রাখা আছে। যেগুলো শনাক্ত হয়েছে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না