,

ঘুরে ঘুরে ময়লা সংগ্রহ করেন মামুন, বিলান গাছ

news-image

এস কে দোয়েল,তেঁতুলিয়া
বাজারের দোকান থেকে মাছ-মুরগীর উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে সেগুলো রিসাইকেল করছেন মাহমুদুল ইসলাম মামুন। এলাকায় সবার কাছে তিনি ‘পরিবেশ-বন্ধু’ নামে পরিচিত। তিনি যে শুধু ময়লা সংগ্রহ করেন তা নয়, পরিবেশ রক্ষায় সবার মাঝে গাছও উপহার দেন করেন।

রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন মামুন। পরিবেশের জন্য তার এসব কাজ এলাকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার সেই কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য আঞ্চলিক পরিবেশ বিভাগ তিনবার পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার সাধারণ মানুষ থেকে প্রশাসন—সবার কাছেই মামুন পরিচিত। বিনা পয়সায় গাছের চারা বিলি করা এবং ঘুরে ঘুরে বই পড়ানোই এখন তার কাজ।

তেঁতুলিয়ার সীমান্তঘেষা আজিজনগর গ্রামের আজহারুল ইসলাম ও মাহমুদা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান মামুন।

প্রতিদিনের মতো আজ রোববার সকালেও বাজারের মাছ পট্টি থেকে ময়লা বালতিতে ভরাচ্ছিলেন এই তরুণ। মাছ ব্যবসায়ী উমর আলী জানান, মাছের নাড়িভুঁড়ি ফেলার জায়গা ছিল না তাদের। মাছ কাটার পর এসব ময়লা মহানন্দা নদীতে ফেলা হতো। দুর্গন্ধ ছড়াত চারদিকে।

উমর আলী আরও বলেন, মামুন এসে বললেন, ময়লা যত্রতত্র ফেলায় পরিবেশদূষণ হচ্ছে, নদীদূষণ হচ্ছে। কিন্তু তার কথা কেউই মানছিল না। উপায় না দেখে মামুন নিজেই এসব ময়লা আবর্জনা নিয়ে যান। কয়েক বছর ধরে স্বেচ্ছায় ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছেন মামুন।

একই কথা জানালেন মুরগী ব্যবসায়ী রতন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মুরগী কাটার পর চামড়া, নাড়িভুঁড়ি নিয়ে নদীতে ফেলতাম। কিন্তু মামুন ভাই পরিবেশদূষণের কথা জানান। আমরা কী করব, কোথায় ফেলব এসব। তাই মামুন ভাই প্রতিদিন এসে এগুলো নিয়ে তার নিজের ও প্রতিবেশী গরীব মানুষদের হাঁস-মুরগীর খাবার হিসেবে দেন, কখনো পথের কুকুর, বিড়ালকে খাওয়ান। জৈব সারও তৈরি করেন।’

এভাবেই কয়েক বছর ধরে হাটবাজারের মাছ ও মুরগী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দোকানিদের মাঝে মামুন পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করছেন। পরিবেশ রক্ষা ও শিক্ষায় নানাবিধ কাজ করেও বাজারের ময়লা আবর্জনা বয়ে নিয়ে রিসাইকেল করছেন। আশেপাশের অনেক গ্রামের মানুষের মধ্যে মামুন লক্ষাধিক গাছ বিতরণ করেছেন। প্রতিদিন বইও পড়িয়ে চলছেন। এ ছাড়া গ্রামে গ্রামে বই পড়ার আসর বসান এই অদম্য তরুণ। সমাজের উল্টো স্রোতের এত কাজ করে ক্লান্ত হন না কখনো।

বাজার থেকে ময়লা-আবর্জনা নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে মাহমুদুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘শৈশব থেকে আমি গাছ লাগাচ্ছি, পড়াচ্ছি ও পরিবেশদূষণে সচেতনতা তৈরির কাজ করছি। বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি হু হু করে উষ্ণায়ন বাড়ছে, দুর্যোগ আসছে। এসব মানুষের কারণে। ময়লা আবর্জনা পঁচে মিথেন তৈরি হয়। সেই মিথেন গ্যাস উষ্ণায়নে হাওয়া দেয়, গাছ লাগানোর পাশাপাশি উষ্ণায়ন কমাতে নানাভাবে ভাবতে হবে। আমি এই বার্তাটাও দিয়ে যাচ্ছি। আমরা যে খাদ্য অপচয় করি, উচ্ছিটাংশ এসবও পঁচে মিথেন গ্যাস হয়ে উষ্ণায়নে হাওয়া দেয়। আমি কাজ করে বিজ্ঞানের যুক্তিতে সবাইকে বুঝাই।’

মানুষ ও পরিবেশের কল্যাণের কাজ করতে মামুনকে উৎসাহ দেন তার মা মাহমুদা বেগম। তিনি ছেলের এই কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রান্তিক জনপদে সামাজিক সচেতনতা, পরিবেশদূষণ রোধ ও গাছের চারা বিলিয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্যের লড়াইয়ে মামুনের ক্লান্তিহীন এ কাজ সত্যিই অসাধারণ। বিশেষ করে পরিবেশ ও নদীদূষণ রোধ করতে বাজার থেকে ময়লা-আবর্জনা রিসাইকেল করা উদ্যোগটি ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ। আমরা প্রশাসনিকভাবে তাকে এসব কাজে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করছি।’

 

এ জাতীয় আরও খবর

বিদায়ি বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

১২ জেলায় ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা

ময়মনসিংহে এনসিসি ব্যাংকের স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ক্যাম্পেইন ও বৃক্ষবিতরণ অনুষ্ঠিত

বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশকে ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা

জিয়া-খালেদার সমাধিতে বিএনপির নতুন ৪ নেতার শ্রদ্ধা

সমাজের সবাই এগিয়ে এলে বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানতে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চাই: মির্জা ফখরুল

গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে যা করবেন, যা করবেন না