শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীর রেবেকার চোখে আজও জল ‘

news-image

রানা প্লাজার কথা সবাই ভুলে গেছেন’
হয়তো কিছু টাকা পেয়েছি, কেউ একটা বাড়ি করে দিয়েছেন। কিন্তু কেউ কি আমার পা দুটো এনে দিতে পারবেন? যা দিয়ে আমি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে হেঁটে বেড়াব। আমার স্বামী, সন্তানদের জরুরি প্রয়োজনে তাদের কাছে যেতে পারব। আট-নয় বছর পেরিয়ে গেল, সবাই রানা প্লাজা দুর্ঘটনার কথা ভুলে গেছেন। কিন্তু আমি ভুলতে পারি না। প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে সেই ভয়াল স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় দুই পা হারানো দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর রেবেকা খাতুন।

পঙ্গু রেবেকা আজও সেই ভয়াল দুঃসহ স্মৃতি বহন করে চলেছেন। রানা প্লাজার ঘটনায় হারানো দুপায়ে জরুরি অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন ছিল; কিন্তু করাতে পারেননি।

শনিবার কথা হয় ফুলবাড়ীর আলাদীপুর ইউনিয়নের বারাই চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের স্ত্রী পঙ্গত্ব বরণকারী রেবেকা খাতুন এবং একই দুর্ঘটনায় নিখোঁজ কাজিহাল ডাঙ্গা গ্রামের গুলশান আক্তার শাবানার পরিবারের সঙ্গে।

রেবেকা বলেন, দুর্ঘটনায় অচেতন হয়ে তিন দিন আটকা পড়ে ছিলাম ওই ভবনে। উদ্ধারকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারি আমি হাসপাতালে। আরও পরে জানতে পারি শরীরে অপরিহার্য দুটি পা নেই আমার। এরই মধ্যে দুপায়ে আটবার অপারেশন কারা হয়েছে। দীর্ঘ ১ বছর ঢাকাস্থ পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে কর্মহীন হয়ে গ্রামে ফিরে আসি।

এদিকে এরই মধ্যে তার কোলজুড়ে আসে প্রথম সন্তান ছিদরাতুন মুনতাহা (৭) এবং মাদানী আন নুর (৩)। পঙ্গুত্বের কারণে ইচ্ছে করলেও অন্য মায়েদের মতো নিজের সন্তানদের করতে পারে না আদর যত্ন। স্বামীর জরুরি প্রয়োজনেও কোনো কিছুই করতে পারেন না।

একটি বেসরকারি সংস্থা তার দুটি কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কিন্তু ওই পা দিয়ে সমান জায়গা ছাড়া চলাচল সম্ভব নয়। কিংবা কোথাও গেলেও পা লাগিয়ে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন। স্বামী ছাড়া তেমন চলাফেরা বা কোনো কাজ করতে পারেন না। গতবছর একটি বেসরকারি সংস্থা একটি বাড়ি করে দিয়েছেন কিন্তু সেখানেও থাকতে পারেন না কারণ আশপাশে তেমন বাড়ি নেই।

এদিকে উপজেলার কাজিহাল ইউনয়নের ডাঙ্গা গ্রামের আতাউর রহমানের স্ত্রী গুলশান আক্তার শাবানার স্বামী আতাউর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতোই শাবানা ওইদিন রানা প্লাজায় কাজ করতে যায়। ঘটনার পর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজ তালিকায় শাবানার নাম ছিল। এর সূত্র ধরে সে সময় ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছি, আর কিছুই না। কিন্তু আজও তার কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা