,

রাস্তায় ঘোরে না চাকা, ঘরে জ্বলে না চুলা

news-image

বিশেষ সংবাদদাতা : রোববার বিকেল সোয়া ৫টা। রাজধানীর মিন্টো রোডের চার রাস্তার মোড়। যানজটে থমকে আছে শত শত যানবাহন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো ভিআইপির গাড়িও আটকা পড়েছে। এ কারণে দায়িত্বরত সার্জেন্ট এবং দুজন পুলিশ সদস্যকে মোড়ের চারপাশে আটকে থাকা যানজট কীভাবে খোলা যায় সে চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে দৌড়ঝাঁপে কোনো কাজ হয় না।

যানজটে থাকা কয়েকজন বলাবলি করছিলেন, পল্টন থেকে এটুকু পথ আসতে দেড় ঘণ্টা লাগলো। আল্লাহ জানেন ইফতার কোথায় করতে হয়।

যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক বলাবলি করছিলেন, বাসায় গিয়ে কী হবে? সকাল থেকেই নাকি গ্যাস নেই, চুলা জ্বলছে না। বউ এ কারণে ইফতার কিনে নিয়ে যেতে বললো। কী জ্বালায় যে আছি! রাস্তায় ঘোরে না গাড়ির চাকা, গ্যাসের অভাবে ঘরে জ্বলে না চুলা।

আজ রোববার (৩ এপ্রিল) পবিত্র রমজানের প্রথম দিন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের শেষ বিকেলে ঘরের বাইরে যানজট ও গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ রমজানের প্রথম দিন রাজধানীতে দিনভর যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হলেও শেষ বিকেলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার ঘরফেরা মানুষের ভিড়ের কারণে বিভিন্ন রাস্তায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়।

মতিঝিলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন মিরপুরের আকবর আলী। তিনি বলেন, বিকেল ৪টায় মিরপুরের বাসে রওনা হয়ে দেড় ঘণ্টায় শাহবাগে পৌঁছেছি। বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারবো কি না, জানি না।

সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কম ছিল। তবে শেষ বিকেলে এসে লাইনে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ঘরে তৈরি ইফতারের খাবার ছোটবড় নির্বিশেষে সবারই প্রিয়। গৃহকর্ত্রীরা দিনভর বিভিন্ন আইটেমের ইফতার তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করলেও শেষ বিকেলে গ্যাস না থাকায় অনেক এলাকার মানুষ শেষ পর্যন্ত ইফতার তৈরি করতে পারেননি। এ সময় পাড়া-মহল্লার হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ভাসমান ইফতার বিক্রেতাদের দোকানে লাইন ধরে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ইফতার কিনে নিয়ে যান। শেষ হওয়ায় অনেকে ইফতারও কিনতে পারেনি বলে জানা যায়।

রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা শাহ আলম জানান, প্রথম দিন ঘরে তৈরি খাবার খাবো বলে বাসায় সকাল থেকে বিভিন্ন আইটেমের ইফতার সামগ্রী তৈরি করতে প্রস্তুতি নিল। কিন্তু লাইনে গ্যাস না থাকায় চুলা জ্বালাতে না পারায় কিছুই তৈরি ও ভাজতে পারেনি।

লালবাগের বাসিন্দা আতাউর রহমান ফোন করে তার নাতিকে জিলাপি কিনে নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু নাতি খালি হাতে ফিরে আসে। কারণ জানতে চাইলে নাতি জানায়, জিলাপির দোকানে বিশাল লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে জিলাপি কিনতে কিনতে আজান হয়ে যাবে তাই সে খালি হাতে ফিরেছে।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আতাউর রহমান বলেন, এই প্রথম তিনি জিলাপি ছাড়া ইফতার করলেন।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড