বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আতঙ্ক কাটছে না ওহী-রাহির

news-image

নিউজ ডেস্ক : দুই দিনেও অধরা চালক-হেলপার রাজধানীর ভাসানটেক থানাধীন বিআরবি কলোনির একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় দুই মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে সুখেই ছিলেন গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন। কিন্তু আচমকা এক ঝড় এসে যেন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে তাদের সাজানো সংসার। গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বরে অবস্থিত ডেন্টাল কলেজের সামনের সড়কে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্টের একটি বেপরোয়া বাসের চাপায় ছোট্ট দুই সন্তানের সামনেই প্রাণ গেছে গৃহবধূ সাবিনার।

ঘটনার পর থেকে হতবিহ্বল সাবিনার দুই সন্তান হুমায়রা ইয়াসমিন ওহী ও রাহিয়া ইয়াসমিন রাহি। চোখের সামনে মায়ের এমন মৃত্যু ভুলতে পারছে না তারা। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনার পর দুদিন কেটে গেলেও মায়ের জন্য কেঁদে কেঁদে ফিরছে দুই শিশু। ক্ষণে ক্ষণে বাবা রফিকুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে দুর্ঘটনার দৃশ্য ভেবে ভয়ে শিউরে উঠছে তারা।

গতকাল বুধবার বিআরবি কলোনিতে নিহত সাবিনার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, চোখের সামনে মাকে হারিয়ে আতঙ্ক কাটছে না ওহী-রাহির। বিভীষিকাময় সেই ক্ষণের কথা আউরে মায়ের ছবি দেখছে ওহী। তার পরীক্ষার কারণেই রাস্তায় বেরিয়ে মায়ের প্রাণ গেছে, এই ভাবনায় নিজেকে দোষারোপ করছে সে। আর মাকে দেখতে না পেয়ে কেঁদেই চলেছে রাহি। স্বজনদের কোনো সান্ত্বনাই যেন কাজে আসছে না। সদ্য স্ত্রীকে হারিয়ে ও মেয়েদের অবস্থা দেখে যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন সাবিনার স্বামী নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। দুই মেয়েকে সামলাতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা তার। ক্ষণে ক্ষণে রফিকুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছে দুই বোনই। স্বজনরা জানান, নয় বছরের ওহী ও পাঁচ বছরের রাহি খেতে না চাইলে সাবিনা তাকে আদর করে খাওয়াতেন। সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্যও যত্ন করে তাদের তৈরি করে দিতেন মা। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা এই সংসারের সব সুখ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

রফিকুল ইসলাম জানান, সাবিনাকে হারিয়ে চোখে এক প্রকার অন্ধকার দেখছি। দুই মেয়েকে কোনোভাবেই সামলাতে পারছি না। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে তারা। চোখের সামনে মাকে হারিয়ে ছোট্ট দুই মেয়ের আতঙ্ক কাটছে না। একটা সাজানো-গোছানো সংসারের এই পরিণতির জন্য দায়ী বাসের চালক-হেলপারকে গ্রেপ্তার করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এদিকে ঘটনার দুই দিনেও ঘাতক সেই বাসটিকে জব্দ করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেপ্তার করা যায়নি বাসের চালক-হেলপারকেও। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো মামলাও হয়নি বলে জানিয়েছেন ভাষানটেক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হাসানাত খন্দকার। তিনি জানান, ট্রাস্ট পরিবহনের বাসটি ঘটনার পরপর পালিয়ে যাওয়ায় সেটি চিহ্নিত করা যায়নি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ঘাতক বাসটি জব্দ ও চালক-হেলপারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ হলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের বৈঠক

বোয়ালখালীতে ৫ শ্রমিকের মৃত্যু, মামলা ছাড়াই চলছে সমঝোতার চেষ্টা

১৭ বছর পর ইংল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ, টেস্ট হবে লর্ডসে

২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডের HSCপরীক্ষা শুরু

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তারেক রহমানকে মোদির আমন্ত্রণ

গাজী নজরুলের বহিষ্কার জানিয়ে ইসিকে চিঠি জামায়াতের

ইরান ইস্যুতে কঠিন কূটনৈতিক চাপে ট্রাম্প

মানবিক সহায়তায় আলোচনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাংলাদেশের

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুরের বৈঠক

তথ্যমন্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা