,

দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

news-image

আনিসুর রহমান

মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে অনেক শ্রমজীবী মানুষ। একদিকে কর্মসংস্থানের সূচকের অবনতি, অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের দর বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের যাপিত জীবনে নিদারুণ যাতনা নিয়ে এসেছে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন ছাপোষা মানুষ।

দেশে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বরাবরের মতো কৃত্রিম সংকট, সরবরাহে ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কথা বলছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে দর বৃদ্ধির ফলে দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে কোনো খরচ বানে না। দর বাড়ার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তারা স্বেচ্ছায় কখনও দাম কমিয়েছে বলে নজির নেই। পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, আমদানি শুল্কে ছাড় এবং ভর্তুকি দিয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

দেশে ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে চালের দাম অনেকটা বেড়ে যায়। এরপর আর তেমন একটা কমেনি।

পরিসংখ্যার ব্যুরো ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চালের গড় দাম ৪০ টাকার নিচে ছিল। আর ১০ বছর আগে ২০১১-১২ সালে ছিল ৩৩ টাকা ২০ পয়সা। ১৫ বছর আগে ২০০৬-০৭ সালের দিকে ছিল ১৮ টাকা ৭৭ পয়সা।

শনিবার সরেজমিনে বাজার পর্যবেক্ষণে জানা যায়, এখন বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো রকমের চাল পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজধানীর বাজারগুলোতে ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়েও যে পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৩০-৩৫ টাকায় সেই পেঁয়াজ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকায়। গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। ওইদিন পেঁয়াজ পাওয়া গেছে ৫০-৫৫ টাকায়।

পাশাপাশি সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বোতলে ১৬৫-১৬৮ টাকা মূল্য লেখা থাকলেও বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে নিকেতন বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ইদানিং ডিলাররা সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে না। ফলে বাজারে তেলের সংকট দেখা দিচ্ছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৬৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ঠিক করা হয় ৭৯৫ টাকা। এর ২০ দিনের মাথায় গত সপ্তাহে আবার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা করে বাড়াতে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা প্রস্তাব দিলেও তাতে সায় দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সালমা জাহান নামে এক গৃহবধূ বলেন, প্রতিনিয়ত যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, তাতে রাজধানীতে বসবাস করাই দায়। আয়-রোজগার বাড়েনি। কিন্তু সব কিছুর দাম নানা অজুহাতে বাড়ানো হয়েছে।

আজমল হুসাইন নামে এক চাকরিজীবী বলেন, আমাদের ইনকাম বাড়েনি। অথচ প্রায় পণ্যের দাম বেড়েছে। এতে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোহিত আহমেদ বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে যাপিত জীবনের মানে ক্রমাবনতি হচ্ছে। কারণ নিত্যপণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, আমাদের আয় তো সেভাবে বাড়েনি।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক মাগফুর রহমান বলেন, তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি এবং আমাদের এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড