,

জীবনসঙ্গীর কাছেও নিরাপদ নয় নারী

news-image

লাবণ্য লিপি
স্বামীর হাতে ১৮ জানুয়ারি খুন হয়েছেন অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। দিনভর স্বামী তার বস্তাবন্দি লাশ গাড়িতে নিয়ে ঘুরে রাতের অন্ধকারে ব্রিজের নিচে ফেলে দিয়ে এসেছেন। স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যার দায় শিকার করেছেন। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের কারণেই হত্যা করা হয়েছে শিমুকে।

কিছু দিন আগের আরেকটি ঘটনা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের ছাত্রী এলমা চৌধুরীর রহস্যময় মৃত্যু। এলমার অভিভাবকদের অভিযোগ, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। কারণ তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নানা ধরনের নির্যাতন করত, এমনকি তাকে বাবার বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগও করতে দিত না।

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে ৭ জানুয়ারি সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে জিডি করেন তার স্ত্রী চিকিৎসক জাহানারা এহসান। তিনি ৯৯৯-এ কল করেও সহযোগিতা চান।

ঘটনা তিনটি নতুন কিছু নয়। এমন অনেক ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং ঘটেই চলেছে। কিছু ঘটনা মিডিয়ার কারণে সামনে আসে, কিছু আসে না। কিন্তু কথা হচ্ছে নিজ ঘরে তথা নারী আসলে কোথায় নিরাপদ? নিজের ঘরে, স্বামীর কাছেও কি তিনি নিরাপদ? স্বামী বা সঙ্গীর হাতে নারী নির্যাতনের হার বাংলাদেশে কোনো অংশেই কম নয়, বরং বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারিবারিক নির্যাতনের শীর্ষে থাকা দেশগুলোর তালিকাতেও নাম উঠেছে বাংলাদশের।

বিভিন্ন জরিপের তথ্য অনুসারে করোনাকালে দেশে ২৩ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ২০২১ সালে করোনা মহামারীর মধ্যে বিশ্বব্যাপী স্বামীর হাতে স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আশঙ্কাজনক হারে। তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৬তম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য মতে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতনের মামলা ১৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২১ সালে ৯৯৯-এ যত কল এসেছে, এর মধ্যে ৪৭ শতাংশই স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। গত এক বছরে এমন অভিযোগ বেড়েছে ১৭৪ শতাংশ।

মানুষ নিরাপত্তার জন্য সঙ্গী বেছে নেয়, ঘর বাঁধে। ওই ঘরেই যদি খুন হতে হয়, তা হলে কোথায় নিরাপত্তা খুঁজবে নারী? কেনই বা ঘটছে এমন সব ঘটনা? এ বিষয়ে সপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট দিলরুবা শরমিন বলেন, করোনাকালে নারী ঘরে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। এর কারণ কর্মজীবী স্বামী-স্ত্রী অনেক বেশি সময় ঘরে থেকেছেন। আসলে প্রত্যেকেই খানিকটা স্পেস চান। করোনাকালে সেটি পাননি। একসঙ্গে বেশি সময় কাটানোর ফলে একে অন্যের দোষত্রুটিও বেশি দেখেছেন। এতে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। আর করোনার জন্য অনেক ব্যক্তি কাজ হারিয়েছেন। তাদের নানা হতাশা গ্রাস করেছিল। ফলে তারা সহিংস হয়ে ওঠেন। আর এর প্রয়োগ যেন ঘরের সঙ্গীর ওপরই পড়েছে। কারণ তারা মনে করেন, স্ত্রীকে চড়-থাপ্পড় দেওয়াই যায়। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা কোনো অপরাধ নয়, এটি তাদের অধিকার।

হতাশাজনক ব্যাপার হচ্ছে, এখনো আমাদের সমাজের অনেক ব্যক্তি পারিবারিক সহিংসতাকে নির্যাতনই মনে করেন না। এমনকি অনেক নারীও মনে করেন, স্বামী একটু-আধটু গায়ে হাত তুলতেই পারেন। আসলে কোনো ব্যক্তিই যে কারও গায়ে হাত তোলার অধিকার রাখেন না এটিই অনেকে জানেন না।

করোনার সময় ডিভোর্সও বেশি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী-পুরুষ একাধিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এটি যখন জানাজানি হয়েছে, তখন শুরু হয়েছে অশান্তি। একপর্যায়ে ডিভোর্স। এটি সবচেয়ে বেশি হয়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সবার আগে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচার বিভাগ ও পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অনেক ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নিতে চান না। কারণ বিচারকাজের প্রলম্বিতা। আবার অনেক ঘটনা আছে যে, নির্যাতনের শিকার হয়ে জিডি করতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জিডি না নিয়ে হাসাহাসি করেন। এসব কারণে মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। এসব বিষয় নজরদারিতে রাখতে হবে রাষ্ট্রকেই। আর মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। নির্যাতিত নারীর পাশে সবার আগে পরিবারের সদস্যদের দাঁড়াতে হবে। নির্যাতনকে নির্যাতনই ভাবতে হবে, হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

 

এ জাতীয় আরও খবর

ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি কেন, জানালেন জিএস ফরহাদ

শিশুদের সম্ভাবনা বিকশিত করতে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

‘বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার’

রাজউকে দুদকের হানা

বীমা খাতে ৭ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ ৭ সাবেক অধিনায়ক

ট্রাম্পের সমঝোতার ঘোষণার পরই কিয়েভে পেট্রল স্টেশনে হামলা

এস কে সুরের স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ড

সাদ্দাম-ইনানসহ ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ঢাবিতে মিষ্টি বিতরণ

সৎ থাকাটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ: আসিফ মাহমুদ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রভাবে সংকটে গরুর মাংসের বাজার

যেসব অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড