,

এরশাদের সময় চাকরি হারানো আকন পেতে যাচ্ছে সব পাওনা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাকরি হারানোর প্রায় চার দশকের মাথায় বেতন-ভাতা, অন্যান্য সুবিধাসহ সমুদয় পাওনা পেতে যাচ্ছেন পাট সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক পাট সম্প্রসারণ সহকারী মো. ওবায়দুল আলম আকন। পটুয়াখালীর বাউফলের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আকন ১৯৮২ সালে লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে চাকরিচ্যুত হন।

বকেয়া পাওনাদি ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। সর্বোচ্চ আদালত থেকে তাঁর পক্ষে রায় আসে। সর্বোচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আপিল বিভাগে আবেদন করে। শুনানি নিয়ে এই আবেদন আজ সোমবার খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের ভার্চ্যুয়াল আপিল বিভাগ।

আদালতে মো. ওবায়দুল আলম আকনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মো. মোরশেদ।

আদেশের পর আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিলম্বে রিভিউ করায় আপিল বিভাগ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ আপিল বিভাগের রায় বহাল রইল। এর ফলে চাকরি হারানোর ৩৯ বছর পর বেতন-ভাতা, অন্যান্য সুবিধাসহ সমুদয় পাওনা পেতে যাচ্ছেন ওবায়দুল আলম আকন। অবসর পর্যন্ত তাঁর চাকরির মেয়াদকালের বেতন-ভাতা, অন্যান্য সুবিধাসহ সম্পূর্ণ পাওনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরিশোধ করতে হবে।’

আইনজীবী সূত্রের তথ্যমতে, ১৯৭৪ সালে পাট সম্প্রসারণ সহকারী পদে যোগ দেন মো. ওবায়দুল আলম আকন। মেয়াদ অনুযায়ী ২০১২ সালে তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে আড়াই টাকা বেশি দামে সরকারি পাটবীজ বিক্রির অভিযোগে ১৯৮২ সালের ১৫ এপ্রিল আকনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই অভিযোগে ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর সামরিক আদালত তাঁকে চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি দুই মাস জেল ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। সাজা অনুযায়ী তিনি জেল খাটেন ও জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

কিন্তু ২০১০ সালে হাইকোর্ট ও পরের বছর আপিল বিভাগ এরশাদের সামরিক শাসনামলকে বৈধতা দিয়ে আনা সংবিধানে সপ্তম সংশোধনী অবৈধ বলে ঘোষণা করেন। রায়ে ওই সময়ে জারি করা সামরিক ফরমান, আদেশ ও কার্যপ্রণালি সাময়িক সময়ের জন্য মার্জনা করা হলেও সে সময়ে সম্পাদিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো পুরোপুরি মার্জনা করেন সর্বোচ্চ আদালত।

এরপর সামরিক আদালতের সাজা ও চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আকন। রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে এরশাদের সামরিক আদালতে তাঁকে দেওয়া সাজা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আবেদনকারী আকনকে তাঁর চাকরিজীবনের অবসর পর্যন্ত বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ যাবতীয় পাওনা দিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তথা কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আপিল বিভাগে আপিল করে। গত বছরের ৮ মার্চ আপিল বিভাগ রায় দেন। রায়ে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বহাল রেখে সামরিক আদালতের সাজা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণাসংক্রান্ত অংশ বাদ দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ আবেদন আজ খারিজ হয়।

 

এ জাতীয় আরও খবর

সবকিছুর সমালোচনা না করে সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান

নতুন অপরাধ ঠেকাতে পুরোনো আইন যথেষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা

দোলাবাড়ি ঋষিপাড়া পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কালীপদ ঋষি দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত

ম্যাচ ছাড়াই সেমিফাইনালে উঠতে পারে বাংলাদেশ

হবু বরকে নিয়ে কী ইঙ্গিত দিলেন মিমি?

বিগত সময়ে শিক্ষাখাতের বরাদ্দে শুভঙ্করের ফাঁকি ছিল : শিক্ষামন্ত্রী

বাণিজ্য- বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ-ইইউর নতুন উদ্যোগ

আকাশ থেকে বাঘ দেখার সুযোগ, সুন্দরবনে ফাইভ-স্টার ট্রি-হাউস রিসোর্টের পরিকল্পনা

ক্রিকেটার রিংকুর জীবনসঙ্গী হতে যাচ্ছেন এমপি প্রিয়া

উত্তর কোরিয়াকে ৩২৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের

ইয়েমেনে সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি হুথিদের