বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিদর্শিকার সেচ্ছাচারিতা

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা আয়েশা বেগমের সেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ আগত রোগীরা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে প্রসূতি মা সহ শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি চেম্বারে আসেন বেলা ১১টার পরে। আবার চলে যান দুপুর ১টার মধ্যে। যদিও তিনি পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দু’তলা ভবনে থাকেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, সকাল ৯টা থেকে রোগীরা অপেক্ষা করতে থাকলেও তিনি দু’তলা থেকে নেমে আসেন ১১টার পর। কেউ দু’তলা বাসায় তাকে ডাকতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এছাড়াও তিনি প্রসূতি মা ও শিশুদের সমস্যা দূর থেকে শুনে চিকিৎসা সেবা দেন। তার কাছে কাউকে ভীড়তে দেন না। গত সপ্তাহে একটি শিশু তার মায়ের কোল থেকে হাত বাড়িয়ে পরিদর্শিকা আয়েশা বেগমের গা ছোঁয়ার চেষ্টা করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুর গালে চড় মারেন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হন এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘেরাও করেন। বিষয়টি উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বশীলরা জেনেও নীরব আছেন।

অভিযোগ আছে, এখানকার কেন্দ্রে আগত প্রসূতি নারীদের নানা কথা বলে তাদের পছন্দের প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার করাতে পাঠিয়ে দেন পরিবার পরিদর্শিকা আয়েশা বেগম ও উপজেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা। শুধু কালিকচ্ছ পরিবার কেন্দ্রই নয়, উপজেলার নোয়াগাঁও, অরুয়াইল ও পানিশ্বর পরিবার কেন্দ্র থেকেও স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে প্রসূতি নারীদের সিজারের জন্য পাঠানো হয়।
আর এতে কমিশন বাণিজ্য করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা। তিনিই পছন্দের প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকদের সঙ্গে প্রতি সিজারের কমিশন চুক্তি করেন। আর পরিবার কেন্দ্রগুলোর পরিদর্শিকারা তার কথামতো সিজারের রোগী পাঠিয়ে দেন সেই প্রাইভেট হাসপাতালে। বিনিময়ে তারাও কমিশনের ভাগ পান।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর)  সরেজমিন বেলা সাড়ে ১১টায় কালিকচ্ছ স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পরিদর্শিকা আয়েশা বেগম রোগী দেখছেন। আগত রোগী কালিকচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা বৃষ্টি আক্তার, লতিফা বেগম সহ কয়েকজন জানান, তারা এখানে সকাল সাড়ে ৯টায় উপস্থিত হয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা পৌনে ১১টায় ডাক্তার আপা দু’তলা থেকে নেমে এসে রুমের দরজা খুলেন।

এ বিষয়ে পরিদর্শিকা আয়েশা বেগম জানান, এখানে প্রায় প্রতিদিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এখানে প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারিও করানো হয়। তবে এই ভবনে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকায় বহু পুরুষ মানুষের আনাগোনা, তাই এখানে ডেলিভারি করাতে সমস্যা হয়। আমরা বাধ্য হয়ে তাদের অন্যত্র পাঠাতে হয়। এতে কোনো বাণিজ্য নেই। মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা আমাদের দেখাশুনা করে থাকেন।

এ ব্যাপারে জানতে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার অনন্যা সুলতানা এর মুঠোফোনে কল দিয়ে বিস্তারিত জানানো হলে, তিনি নেটওয়ার্ক এর দোহাই দিয়ে অফিসে গিয়ে দেখা করার কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ জাতীয় আরও খবর

দিল্লির বিক্ষোভে আতঙ্কিত ছিলেন কঙ্গনা

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির

নগদ টাকার প্রবাহে বড় উত্থান, ব্যাংক খাতে বাড়ছে চাপের শঙ্কা

বাজেটে ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

তারল্য ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন

কোটা আন্দোলন ঘিরে গ্রেপ্তার ১২শ বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মী

আটকের পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ কংগ্রেস নেতারা

ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম চড়া

সংকটে দেশের অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণে বাড়ছে ঝুঁকি

১৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার

রাজপ্রাসাদে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে সংবর্ধনা