,

যৌতুকের দাবিতে দিপাকে হত্যা করা হয়, অভিযোগ পরিবারের

news-image

আরিফুল ইসলাম সুমন,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স পড়ুয়া ছাত্রী গৃহবধূ দিপা দেবনাথ হত্যা মামলাটি বিশেষ গুরুত্বসহকারে দেখছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নিহত দিপার স্বামী অপূর্ব রায়, শ্বাশুড়ি প্রতিমা রায়, ননদ মমী রায় ও ননদের স্বামী অপূর্ব রায় অপুকে গ্রেফতারে পুলিশ জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ও এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. তারেক সুমন এক সাক্ষাতকারে এ প্রতিবেদককে এসব কথা জানান। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ইতোমধ্যে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ একাধিকস্থানে অভিযানও চালায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে দিপাকে হারিয়ে তার স্কুল শিক্ষিকা শোকাহত মা জয়ন্তী রাণী দেবনাথ এখন বাকরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। একমাত্র মেয়ের অকাল মৃত্যুতে শোকে কাতর দিপার চিকিৎসক বাবা পরিতোষ দেবনাথ।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামী গৃহবধূ দিপাকে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায়ে তারা দিপার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দিপাকে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এনে ফেলে রেখে তারা গাঢাকা দেয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণার পর পুলিশ ডেকে দিপার মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে রেখে দেয়। খবর পেয়ে নিহতের পরিবার এসে পরিচয় নিশ্চিত করে এবং ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ তারা গ্রহণ করে নিয়ে যায়। পরে দিপার বাবা পরিতোষ দেবনাথ বাদী হয়ে ৯ নভেম্বর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় দিপা ও অপূর্ব রায়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রয়ারি পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। দিপা ও অপূর্ব রায়ের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার উছমানপুর গ্রামে। বিয়ের পর অপূর্ব স্ত্রী দিপাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইকপাড়ায় ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকতো। তাদের সঙ্গে অপূর্ব’র মা প্রতিমা রায়ও থাকতেন। এখানে অপূর্ব একটি সিমেন্ট কোম্পানির বিক্রয় ম্যানেজার হিসেবে চাকুরি করতেন।

দিপার মামা সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকার বাসিন্দা সুভাষ দেবনাথ জানান, বিয়ের পর থেকেই অপূর্ব ব্যবসা করার জন্য মোটা অঙ্কের টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করে আসছিল। এনিয়ে দিপাকে তারা ভীষণ চাপ দিতো। তারা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে দিপাকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়। মেয়ের শোকে আমার বোন জয়ন্তী বাকরুদ্ধ, এখন তাকে বাঁচানোই দায় হয়ে পড়েছে। আমরা দিপা হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

এ জাতীয় আরও খবর

জিন্নাহর ভূমিকা অস্বীকারের সুযোগ নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শাহজালালের ৩য় টার্মিনালে ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে মেনজিস

রাজশাহীতে পদ্মায় হঠাৎ উঁচু ঢেউ, দেবে গেছে ৭৫ মিটার বাঁধ

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: প্রেস সচিব

৯৯ বিচারককে একযোগে বদলি

ডাকসু থেকে কোনো টাকা নেননি ভিপি-জিএস-এজিএস

প্রবাসীদের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টার অভিযোগ জামায়াত আমিরের

৬ জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করার তাগিদ ইসির

বাদশাকে নিয়ে ইশার বিস্ফোরক দাবি

প্রোপাগান্ডাকে অভিযোগ হিসেবে নেওয়ায় দুদকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন নাহিদের

অডিও ফাস: ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহার

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর