শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলবাড়ীতে সারিন্দার সুর তুলে সংসার চলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুনীলের

news-image

বিশ বছর ধরে সারিন্দার সুরে কোকিল কন্ঠে গান পরিবেশন করে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুণীল চন্দ্র রায় (৩৭)। তার বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিষামত শিমুলবাড়ী গ্রামে মৃত শৈলান চন্দ্র রায়ের ছেলে। বাবার সম্পদ বলতে মাত্র ৪ শতক জমির উপর বাড়ীতে একটি টিনের চালায় ছোট ভাইসহ মা রানী রায় অনেক কষ্টে মানুষের বাড়ীতে কাজ-কাম করে জীবন-জীবিকা নিরবাহ করছে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুলীন চন্দ্র গত ৮ বছর ধরে ফুলবাড়ী ইউনিয়নের মামা মনোরঞ্জনের বাড়িতে থাকে। মামার বাড়ীতে থেকে স্ত্রী ও ৯ বছরের একটি ছোট ছেলে নিয়ে তার সংসার। তার ছোট ছেলেটি তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সুণীলের সম্ভল বলতে প্রতিবন্ধী ভাতা ও তার সুরেলা কন্ঠ।

সুনীল চন্দ্র রায় জানান, তার বয়স যখন ৫ বছর তখন তার টাইফয়েড জ্বর হয়। টাইফয়েড জ্বরের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তিনি দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে তাকে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে চিকিৎসার করার পরেও সুনীলের দৃষ্টি শক্তি আর ফিরে আসেনি। দৃষ্টি শক্তি না থাকায় সুনীল সম্পূর্ণরুপে পরনির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তার পর সে পনের বছর বয়সে জীবন-জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নেন শর আর সারিন্দা।

উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রামগঞ্জে ঘুরে লোকজনের সমাগমে সারিন্দা বাজিয়ে ভাওয়াইয়া, লালনগীতি, পল্লীগীতিসহ বিভিন্ন গান পরিবেশন জীবিকা নিরবাহ করে। শুধুই উপজেলায় নয় সে রংপুরের বিভিন্ন জেলায়ও গান পরিবেশন করে। সুনীলের সূরেলা কন্ঠের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে উপস্থিত মানুষজন যার যেমন সাধ্য অনুযায়ী সুনীলকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করে।

এতে তার দৈনিক ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা আয় হয়। সেই টাকা দিয়েই কোন রকমেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সুণীলের সংসার চলে। এ ভাবে বিশ বছর ধরে সুখ দুঃখের সাথে জড়িয়ে আছে সুণীলের সংসার ও সর সারন্দিা । স্থানীয়রা জানিয়েছেন সুনীলের গাওয়া গান মানুষের মনকে জয় করে নিয়েছেন। সুনীলকে একটু সহযোগীতা করলে সে বড় গায়ক হতে পারতো।

উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, তার প্রতিভা বিকাশের জন্য সব রকম সহযোগীতা করা হবে।