শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এ কেমন কান্ড ইউপি সদস্য আলাউদ্দীনের!

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজশাহীর তানোরে মাত্র ৩ লাখ টাকা জরিমানায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দিয়ে ধর্ষককে মুক্তি ও জরিমানার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, আর এই অপকর্মটি করেছেন কামারগা ইউপির সদস্য (মেম্বার) আলাউদ্দীন আলী প্রামানিক। এদিকে জরিমানার টাকা আত্মসাতের দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখানো কোনো টাকা ফেরত দেয়নি আলাউদ্দীন। তানোরের কামারগা ইউপির মির্জাপুর গ্রামে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছিল। ভিকটিম পরিবার বিষয়টি তানোর থানা পুলিশকে অবগত করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য বলেন, বিভিন্ন মহলে ম্যানেজ করার কথা বলে ইউপি সদস্য (মেম্বার) আলাউদ্দীন আলী এসব টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপণ করেছিল। পরে তিনি ফিরে আসলেও সেই টাকা আর ফেরত দেননি। এদিকে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীনের শাস্তির দাবিতে ইউপিবাসি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

সূত্রে জানা গেছে, তানোরের কামারগা ইউপির মির্জাপুর গ্রামের সনজিতের পুত্র রানা ও কার্তিকের পুত্র সবুজ প্রায় ৫ মাস পূর্বে শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে এতে ওই কিশোরী অন্তস্বঃত্ত্বা ও তার শারীরিক অসঙ্গতি দেখা দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। ২০১৭ সালে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সবুজ ও রানাকে আসামি করে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে না পারায় ভিকটিম পরিবার মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকটা আশাহত হয়ে পড়ে।

এদিকে ২০১৭ সালের ১৭ই মে বুধবার কামারগা ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন আলী বিভিন্ন কৌশলে ভিকটিম পরিবারকে ভয়ভীতি ও এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়ে ৩ লাখ টাকায় আপোষের কথা বলে আপোষ নামায় ভিকটিম পরিবারের স্বাক্ষর নিয়ে আসামি রানা ও সবুজকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। জরিমানার ৩ লাখ টাকাও ভিকটিম পরিবারকে না দিয়ে আত্মসাৎ করেন বলে ভিকটিম পরিবার অভিযোগ করেছেন। এব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আলাউদ্দীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয় এবং পুরোহিত ও নেতাদের ম্যানেজ করতে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়, পরে রানা বিয়ে করতে অস্বীকার করায় ভিকটিম পরিবারকে টাকা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেয়া হলে তাদের টাকা দেয়ার কথা ছিল। এব্যাপারে কাঁমারগা ইউপি চেয়ারম্যান মসলেম উদ্দীন প্রামানিক বলেন, এটা দুঃখজনক ঘটনা একজন ইউপি সদস্য জরিমানার টাকা আত্মসাৎ করেছে। তিনি এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। উৎসঃ মানবজমিন