শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই সুস্মিতার বাড়িতে হঠাৎ মিষ্টি নিয়ে পুলিশ সুপার!

news-image

সদ্য বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি পাওয়া সুস্মিতা দেব শর্মার বাড়িতে হঠাৎ মিষ্টি নিয়ে উপস্থিত হলেন দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম।বৃহস্পতিবার সুস্মিতার বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে উপস্থিত হন তিনি। এ সময় সুস্মিতাকে মিষ্টি খাইয়ে দেন পুলিশ সুপার।এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুশান্ত সরকার, বিরল থানার ওসি এ টি এম গোলাম রসুল, কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশীদ প্রমুখ।

সুস্মিতার বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৯নং মঙ্গলপুর ইউপির উত্তর বিষ্ণপুর গ্রামে। দরিদ্র ঘরের মেয়ে সুস্মিতার বাবা মনতোষ দেবশর্মা গত ১ বছর আগে মারা গেছেন। মা মমতা রাণী দেবশর্মা একজন গৃহিনী। ২ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সুস্মিতা মেঝো।ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগে অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্রী সুস্মিতা। গত ৩ জুলাই দিনাজপুর জেলায় পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি মনোনীত হন।

পুলিশে চাকরি পাওয়া সুস্মিতা বলেন, সবাই জানে বর্তমান সময়ে টাকার বিনিময় ছাড়া সরকারি চাকরি পাওয়া অসম্ভব। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে একটি টাকাও কোথাও অবৈধ লেনদেন করতে হয়নি। বাবা না থাকায় চাকরির আবেদন, পুলিশ লাইনের মাঠে দাঁড়ানো, লিখিত ও অন্যান্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্পূর্ণ কাজ একাই করতে হয়েছে। কিন্তু একা গিয়েও আমি ১০৩ টাকার আবেদন ফরমের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পেয়েছি।

এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং চাকরি জীবনে কোনো প্রকার অবৈধ লেনদেন বা অবৈধ টাকা নেবেন না বলেও জানান প্রতিজ্ঞা করেন সুস্মিতা।সুস্মিতার মা মমতা রাণী জানান, সুস্মিতার পড়ালেখার প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ আগে থেকেই। সে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও বিদ্যালয় জীবনে সফল ছিল। তাই পুলিশে চাকরির জন্য সে একাই কোনো প্রকার টাকা বিনিময় ছাড়াই নিজ যোগ্যতা ও পুলিশ সুপারের সততায় চাকরিটি পেয়েছে।

মঙ্গলপুর ইউপির চেয়ারম্যান সেরাজুল ইসলাম জানান, অভাবের সংসারে স্বামীর অবর্তমানে মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন সুস্মিতার মা। যার ফলে আজ সুস্মিতা সম্মানজনকভাবে মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে পুলিশে চাকরি পেয়েছে।

ইউপি সদস্য আম্পা রাণী দেবশর্মা জানান, পুলিশের চাকরি যে টাকা ছাড়াই পাওয়া যায় তার অন্যতম উদাহরণ সুস্মিতা। এবার দিনাজপুর জেলায় সুস্মিতার মতো অন্যান্য সবাই অবৈধ লেনদেন কিংবা তদবির ছাড়াই চাকরি পেয়েছে শুনে তিনি আনন্দিত ও জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করেন।