শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজ শেষ না হতেই সেতুর দুই পাশে ফাটল!

news-image

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৬ নং লামচর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শেষ না হতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। ইউনিয়নের দাসপাড়া কুইয়ার বাড়ির সামনে ওয়াপদা (পানি উন্নয়ন বোর্ড) খালের ওপর সেতুটি তৈরি করা হচ্ছে।

সেতুর ফাটলের বিষয়ে জানতে রামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন।

সূত্র জানায়, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসাবে ওয়াপদা খালের উপর ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের জন্য ৩২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাফলং এন্টারপ্রাইজ চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে।

এলাকাবাসী বলেন, সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, সিমেন্ট ও রড কম দেওয়ায় দুই পাশে মাটি ভরাট করার সময় সেতুর উইন-ওয়াল সহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। এ সময় তারা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

এদিকে, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হতেই রামগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জুন ক্লোজিংয়ের অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অর্থ ছাড় দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে জানা যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাফলং এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে সেতু তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. সেলিম জানান, সেতুটি নির্মাণে কোন নিম্নমান সামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। সেতুর কাজ শেষে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি ভরাট করার কারণে উইন ওয়াল মাটির চাপে সরে গেছে। যা ঠিক করা সম্ভব। আমরা অবশ্যই তা সমাধান করে দেব।

পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জুয়েল রানা বলেন, জুন ক্লোজিংয়ের পরে ঠিকাদার পুনরায় কাজটি করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তা ছাড়া আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঠিকাদারকে বিষয়টির দ্রুত সমাধান করতে বলে দিয়েছি।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত পিআইও মোশাররফ হোসেন বলেন, ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে সেতুর গোড়ায় মাটি ভরাট করার সময় অতিরিক্ত চাপ পড়ে সেতুর পূর্ব পাড়ের দুইটি উইন-ওয়ালসহ সেতুর আংশিক অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। জুন ক্লোজিংয়ে বিল পাশ হলেও কাজ না করা পর্যন্ত টাকা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। সূত্রঃ দেশ রুপান্তর