শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেলে আসা জুতা নিয়ে ফিরে আসা হল না শাহিনের!

news-image

বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসছিলেন মো. শাহিন মিয়া (২৪)। তবে মনের ভুলে তার পায়ের জুতা ওই বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে ফেলে আসেন। তাই জুতা আনতে আবার খুঁটির পাশে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জুতা নিয়ে আর ফিরে আসা হলো না বিদ্যুৎ শ্রমিক শাহিনের। বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে রাখা জুতা আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুরে ভৈরবের তাতাঁরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাহিন পৌর শহরের জগন্নাথপুর আওয়াল কান্দা এলাকার মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় বিদ্যুৎ শ্রমিক শাহিনসহ ভৈরব বিদ্যুৎ অফিসের কয়েকজন শ্রমিক ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়া তাতাঁরকান্দি এলাকার বিএস টাওয়ারের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি মেরামতের উদ্দেশ্যে যান। কাজ শেষ করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সংযোগ চালু করে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু বিদ্যুৎ শ্রমিক শাহিন মনের ভুলে নিজের পায়ের জুতা ফেলে আসে ওই বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে। পরে তিনি জুতা আনতে যান। কিন্তু লাইন চালু হওয়ার পর মাটিতে পুঁতে রাখা বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে থাকে। এ সময় শাহিন ওই খুঁটির পাশে যাওয়া মাত্র বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাহিনের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত শাহিন একজন বেসরকারি বিদ্যুৎ শ্রমিক ছিলেন। সে দীর্ঘদিন যাবৎ বেসরকারি লেবার সর্দার আরমানের অধীনে লাইনম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন।

এ বিষয়ে লেবার সর্দার আরমান মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার অধীনে শাহিনের মতো আরও চার থেকে পাঁচজন বেসরকারি বিদ্যুৎ শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন লাইন মেরামতের কাজ করতো। দুর্ঘটনাবশত হলেও ভৈরব বিদ্যুৎ অফিসের সহযোগিতা নিয়ে নিহত শাহিনের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান আরমান মিয়া।