শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক খুঁটি মাঝে রেখেই ভবন নির্মাণ

news-image

বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকায় ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক খুঁটি মাঝখানে রেখেই চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ। মৃত্যুঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও মালিকের চাপে কাজ করছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। মৃত্যুঝুঁকিকে ভ্রুক্ষেপ করছেন না ভবন মালিক ব্যবসায়ী হাসান মোল্লা।এদিকে খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে ভবন নির্মাণ করতে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নোটিশ দেয়া হলেও তা মানছেন না ভবন মালিক।

৩৫ বছর আগে কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে জেগে ওঠা চরে বর্তমানে রসুলপুর এলাকা। ওই এলাকায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) বিদ্যুতের সাব স্টেশন-২ স্থাপন করে। ২৭ বছর আগে সাবস্টেশনের দক্ষিণ দিকের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন হাসান মোল্লাসহ আরো ৪/৫ জনের জমিতে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন টানতে খুঁটি স্থাপন করা হয়।

চার মাস আগে হাসান মোল্লা তার জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ভবনের ৭ থেকে ৮ ফুট দূরত্বে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনসহ রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি।

এই খুঁটির উপরের অংশ বিদ্যুত সঞ্চালনের প্রধান তার। বিদ্যুতের খুঁটি ভেতরে রেখেই হাসান মোল্লা নিচতলার ছাদ ঢালাই করেন। এরপর একইভাবে ঢালাই করেন দুই তলার ছাদ। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।শুধু হাসান মোল্লা নয়, তার প্রতিবেশী শাহজাহান ফকিরের একতলা টিনের ঘরের মধ্যেও রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। ওই পরিবারটিও বাস করছে ঝুঁকি নিয়ে।

ভবন নির্মাণের শুরু থেকেই প্রতিবেশীরা হাসান মোল্লাকে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্বে ভবন নির্মাণের পরামর্শ দিয়ে আসছেন। কিন্তু হাসান মোল্লা তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে তিনি ভবন নির্মাণ করছেন। তার নির্মাণ শ্রমিকরাও একইভাবে পরামর্শ দিলে তিনি তাতেও ভ্রুক্ষেপ করেননি।

এ ব্যাপারে ভবন মালিক হাসান মোল্লা জানান, প্রায় ৪ তলা সমান উচু দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের সঞ্চালন লাইন গেছে। তিনি করেছেন মাত্র দুইতলা। এর বেশি উচু করার ইচ্ছে নেই। দুর্ঘটনার তেমন কোনো আশঙ্কাও নেই বলে জানান তিনি। বিদ্যুত বিভাগের কোনো নোটিশ তিনি পাননি বলে জানান।

ওজোপাডিকো সাব স্টেশন-২ এর সহকারী প্রকৌশলী উৎপল চন্দ্র দে জানান, বিষয়টি জানার পর গত ২৩ মে মালিক পক্ষকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। ওই চিঠির অনুলিপি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকেও দেয়া হয়েছে। চিঠিতে খুঁটি থেকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে অথবা নির্মিত ভবনের অংশ ভেঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব রাখতে বলা হয়েছে। নির্মিত ভবনের অংশ ভেঙে নিরাপদ দূরত্ব তৈর করা না হলে ওই ভবন মালিকের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান সহকারী প্রকৌশলী।