শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানকে মুছে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের, সাগরে নৌ-মহড়া

news-image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইরান নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক কোন্দলের জেরে আরব সাগরে নৌ-মহড়া শুরু করেছে মার্কিন রণতরী।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত রোববার ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় বলেন, ইরান যদি যুদ্ধ করতে চায় তা হলে দেশটির আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। ইরানকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প আরও বলেন, আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেবেন না। খবর এপি, ফক্স নিউজ ও বিবিসির।

ইরানকে চাপে রাখতে পারস্য উপসাগরে সম্প্রতি যুদ্ধবিমান বোঝাই রণতরী পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।মার্কিন নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্য উপসাগরে আগেই মোতায়েন করা হয় দুটি রণতরী।যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস কেয়ারসার্জ ১৭ মে থেকে শুরু করেছে যৌথ মহড়া।মূলত তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যই রণতরী মোতায়েন। যদিও মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি, ভবিষ্যৎ যুদ্ধাবস্থা মোকাবিলায় নতুন কৌশল রপ্ত করতেই চলছে মহড়া।

ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে গত মাস থেকেই চলছে দু’দেশের টানাপোড়েন। হরমুজ প্রণালির কাছে আমিরাতের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়। সর্বশেষ গত রোববার ইরাকে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়।ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে রোববার রাতে একটি কাতিউশা রকেট আঘাত হেনেছে।

ইরাকের সব সরকারি সদর দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশির ভাগ দূতাবাস গ্রিন জোনে অবস্থিত। বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের প্রাতিষ্ঠানিক আবাসিক এলাকা হচ্ছে এটি। বাগদাদের কেন্দ্রে অবস্থিত এ এলাকায় পার্লামেন্ট ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস, প্রেসিডেন্ট ভবনসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাড়ি, দূতাবাস ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রকেটটির আঘাতে ভয়াবহ শব্দ হলেও এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর বাগদাদের কেন্দ্রস্থলে সাইরেন বেজে ওঠে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বাগদাদের গ্রিন জোনে কাতিউশা রকেট নিক্ষেপের দায় স্বীকার করেনি।তবে রকেটটি মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি পড়েছে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়।এদিকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, তখন দুই দেশের দাবি, তারা কোনো যুদ্ধ জড়াতে চাচ্ছে না।