,

আওয়ামী লীগের এক কাউন্সিলের অভিজ্ঞতা

photo1_53485ক্যাম্পাস প্রতবিদেক:লেখালেখি করি শখের বসে। দোষে গুণে মেলানো একজন সাধারণ মানুষ আমি। সে জন্যই লেখালেখির মধ্যেও আমার যথেষ্ট চেষ্টা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত কিছু দুঃখ-ক্ষোভের বিষয় এসে যায়। এতে কেউ যদি আঘাত প্রাপ্ত হন, আমি দুঃখিত। দিন কয়েক আগে আমার পিতা আবদুস সামাদ আজাদকে নিয়ে স্মৃতিচারণের সময় কিছু কথা লিখেছিলাম আমার নিজ উপজেলা জগন্নাথপুরের আওয়ামী লীগ রাজনীতি নিয়ে। বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা নয়। ঠিক তার আগের দিন জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হওয়ার কারণে অনেকেই আমাকে কাউন্সিলে বিভিন্ন নেতার বক্তৃতার ধারণকৃত অংশ, অডিটরিয়ামের বাইরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ এবং কাউন্সিল চলাকালীন সময় মঞ্চের পিছনে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বিশেষ পুলিশের ছবি পাঠান। দুর্নীতিবাজ এক কেন্দ্রীয় নেতার বক্তৃতা ছিল ভীষণ আপত্তিকর। আমি শেষবারের মতো নিশ্চিত করছি, যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমতি নিয়েই গত নির্বাচন করেছি; এ বিষয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আর কথা না বাড়াবার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

জগন্নাথপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দুর্নীতিবাজ ওই কেন্দ্রীয় নেতা আমাকে ও আমার সমর্থকদের লাথি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, আমার সমর্থকদের কখনই ক্ষমা করা হবে না। তার এ বক্তব্যটি খুবই আপত্তিকর। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কাউন্সিল ঘোষণার আগেই যেখানে বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটিসহ কাউন্সিলারের তালিকা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে উপজেলা কাউন্সিলের আগের দিন ইউনিয়ন কমিটিগুলো ঘোষণা করা হয়েছে।

আমি আমার লেখায় এ অনিয়মগুলো তুলে ধরেছি মাত্র। এর পিছনে যে জেলার এক দুর্নীতিবাজ নেতা ও কেন্দ্রীয় নেতার যোগসাজশ আছে এবং জেলা কাউন্সিলও একই ধরনের প্রহসনে রূপান্তরিত হতে পারে, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছি। আমি কখনো বলিনি, উপজেলা আওয়ামী লীগ সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর শোকসভা করেনি। আমি বলছি, তারা তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের লিখিত নির্দেশ পত্রের (চিঠির একটি কপি এখনো সযতনে রেখে দিয়েছি) পর সামাদ আজাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। বলেছি, দেশে অবস্থানরত সক্ষম ৪৫ জন উপজেলা আওয়ামী লীগের ৩৮ জন গত নির্বাচনে আমার পক্ষে লিখিত সমর্থন দিয়েছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য অঙ্গসংঠনগুলোও আমার সমর্থনে কাজ করেছেন। এ কথাগুলোর কোন জায়গাগুলো তাদের মনে জ্বালা ধরালো তা জানতে পারলে ভবিষ্যৎ শক্তিশালী আওয়ামী লীগ গঠনের লক্ষ্যে আমি সে কথাগুলো পরিহার করার চেষ্টা করতাম।

আমি সচেতনভাবেই আমার আসনের কোনো নেতারই সমালোচনা করি না এবং আমার আসনের কেউ যখন উপকারের আশায় আমার কাছে আসে তখন আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার বাবার মতোই দলীয় পরিচয় জিজ্ঞাসা করি না। কিন্তু এ লেখার পরিপ্রেক্ষিতে আমার উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে যে লিখিত বিষোদগার করেছেন তা আমার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত নয়। কারণ, গত নির্বাচনের সময় আমাকে নিয়ে এবং সামাদ আজাদের পরিবার নিয়ে যেসব বক্তৃতামালা গেয়ে গেছেন তার ভাষা এর চেয়েও অনেকগুণ জঘন্য, বিদ্বেষপ্রসূত বিষোদগার। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমার পরিবারের চৌদ্দকুলে একজনও যদি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরে থেকে থাকে তবে আমি রাজনীতির নাম মুখেও আনব না। আমি আরও নিশ্চিত করতে চাই, প্রমাণ করারও প্রয়োজন নেই, শুধু যদি বুকে হাত দিয়ে কেউ সাক্ষ্য দিতে পারে, জামায়াত-শিবিরের পরিচয় পাওয়ার পরও এক মুহূর্তের জন্য তাদের সামনে আমি দাঁড়িয়েছি, তবে আমি লেখালেখিও ছেড়ে দেব। অথচ তিনি বলেছেন, আমি জামায়াত-শিবিরের সমর্থনে তার উপজেলায় ১১ হাজার ভোট বেশি পেয়ে পাস করেছি। তাহলে তো জামায়াত-শিবির বেশ শক্তিশালী তার উপজেলায়। সত্য কথা হলো, সামাদ আজাদের গড়া আওয়ামী লীগের সবাই আমাকে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনকালীন তাদের কুৎসিত, কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও বেশ কিছু ভোটকেন্দ্র দখল করা সত্ত্বেও তারা আমার বিজয় ঠেকাতে পারেননি। তারা একবার আমাকে আওয়ামী লীগের কেউ নই বলে দাবি করা আবার পরে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হাস্যকর।

আমি প্রায় ১২ বছর আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করে চলেছি কোনো দলীয় পদবি ছাড়াই এবং কোনো দলীয় পদবি আশা না করেই। কারণ, আমি একজন জন্মসূত্রে আওয়ামী লীগার। গত নির্বাচনের মাঝামাঝি সময়, ডিসেম্বরের ১৯ তারিখ আমাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক করা হয়েছে। সে চিঠি আমার কাছে আছে। এখন কবিগুরুর ভাষার সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলতে হয় 'কাদম্বিনীকে মরিয়া প্রমাণ করিতে হইবে যে, সে মরে নাই।' আমি এখনো দৃঢ়ভাবে সন্দেহ করি, এ সংবাদ সম্মেলনের পিছনেও ওইসব দুর্নীতিবাজ ও স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন রয়েছে। আজ আমি আমার লেখার নীতির বাইরে গিয়ে কিছু কথা বলব। আমার উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদকের পাশে যিনি বসা ছিলেন তিনি এমনই একজন নেতা যিনি জেলা আওয়ামী লীগের একজন পদবিধারী হলেও জেলা আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন না। তিনি খুন আর দুর্নীতি ছাড়া কিছুই বোঝেন না।

১৯৭০ সালে খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জেলখাটা দাগী আসামি তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় জেল থেকে পালিয়ে যান। স্বাধীনতার পর নথিপত্রের বিশৃঙ্খলার কারণে জেলের বাইরে থাকার সুযোগ পান এবং ১৯৭৯ সালে মই মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে ৭০০ ভোটের মতো ভোট পেয়ে জামানত হারান। নির্বাচনের পরপরই নথিপত্রের খোঁজ পাওয়ার সংবাদ পেয়েই পলাতক হন। পলাতক অবস্থাতেই ৮০ সালে লুদুরপুরের মোসাব্বির মিয়ার রাইস মিলের ড্রাইভার সাজিদ মিয়ার খুনের হুকুমের আসামি হন। এর পরপরই তাকে প্রথম খুনের মামলায় আবার জেলে যেতে হয়। কারাভোগের মেয়াদের মধ্যেই সাজিদ হত্যা মামলার আপস মীমাংসা হয় এবং সাজা ভোগ শেষে '৮৪ সালে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে দলে যাওয়া-আসা শুরু করেন। এ ছাড়াও জগন্নাথপুরের আশিঘরের হাফিজ হত্যা মামলার হুকুমের আসামি এই ভদ্রলোক দুর্নীতির মাধ্যমে গাড়ি-বাড়িসহ বিশাল সম্পত্তি গড়ে তুলেই শুধু ক্ষান্ত হননি, আত্দীয়স্বজন দিয়ে একটি বশংবদ আওয়ামী লীগ গড়ে তোলেন। যেমন, তার ভাতিজাকে সভাপতি বানান। তিনি তার ভাগিনাকে বানান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি যে স্কুলের সভাপতি, সেই স্কুলে টিআর কাবিখার প্রতিটি বরাদ্দে তার স্কুলে গম, চাল যায়; উন্নয়ন কী হয়েছে ওই স্কুলের তা সবারই জানা আছে।

এই যদি হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের অবস্থা, তাহলে তারা কোন দুঃখে আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে আর তাদের কোনো অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দেবে। বিশেষ করে তারা যেখানে আমাকে তাদের ধারার আওয়ামী লীগার হিসেবে স্বীকারই করে না। হ্যাঁ, তারা সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর ১০-১৫টি শোকসভা করেছিল বটে, কিন্তু এখন আমি বিশ্বাস করি, এটা তারা করেছিল, কারণ তারা ভেবেছিল আমি ওই সময় উপনির্বাচন করলে আমার জিতার সম্ভাবনা বেশি। আর জিতে গেলে আমার মতো একজন অনভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের মাধ্যমে দুহাতে লুটতরাজ চালাতে পারবে। বিধি বাম। আমি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ইলেকশন করিনি। কিন্তু তারা ঠিকই অন্য একটি মার্কাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে চেষ্টা করেছিল তাদের কায়েমি স্বার্থ চালু রাখতে।

বাকি ইতিহাসগুলো না হয় বাকিই থাকুক। আমি সামাদ আজাদের সন্তান হিসেবে তাদের আহ্বান জানাই, কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন। ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। আর জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাই, যারা পিছন থেকে ইন্ধন দিয়ে এ ধরনের অনৈক্য সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

এ জাতীয় আরও খবর

সাবেক স্ত্রীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে হিরো আলমের মামলা

আসিফের কণ্ঠে মাহবুবুল খালিদের নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’

ধারাভাষ্য দল থেকে বাদ আথারটন-হুসেইন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের বৈঠক

অ্যাপল গ্লোবাল টেলের এমডি-চেয়ারম্যানের ২২ বছরের কারাদণ্ড

জামায়াত রাজনৈতিক দল নয়, একটি সমিতি: বিএনপি নেতা খোকন তালুকদার

ভারতজুড়ে বাংলাদেশের মতো অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ শুভেন্দুর

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৮৫১

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা ইশরাকের

রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা