সব সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার কথা বলল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: রিজভী
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য সমান মর্যাদা এবং সহাবস্থানের সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ নিজস্ব পরিচয় বজায় রেখেই সম্প্রীতির বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন।
সোমবার সকালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, প্রত্যেক নাগরিক যেন নিজের ধর্মীয় উৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এ দায়িত্ব পালনে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন হলো সব সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতি। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ কোনো একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।
দুর্গাপূজার তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তাই এ উৎসবের মূল শিক্ষা। এ আদর্শ সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেকের ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত হলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। তাই ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক যেন বাধা বা নিরাপত্তাহীনতার মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
দুর্গাপূজা ঘিরে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পূজার ছুটি বাড়ানো, পূজামণ্ডপে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ ভাষা ও লোকজ সংস্কৃতির বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে দেশের ধর্মপ্রাণ ও সম্প্রীতিপ্রিয় মানুষ তা প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।











