সড়কে ঝরছে প্রাণ, বাস্তবায়ন হয়নি ১১১ সুপারিশ
অনলাইন ডেস্ক : দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি অব্যাহত থাকলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া ১১১টি সুপারিশের বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ২০১৯ সালে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের মাধ্যমে সাতটি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে এসব সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকি পুরোপুরি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়ে গেছে।
দেশের সড়ক-মহাসড়কে প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও বহু মানুষ আহত হচ্ছেন। কেউ হারাচ্ছেন স্বজন, আবার কেউ গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো দূর করতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।
সড়কে চলাচলকারী বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার ও অটোরিকশার একটি অংশের ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ যানবাহন চলাচল, চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিযোগিতা, বিপজ্জনকভাবে অন্য যানকে অতিক্রম করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া গাড়ি চালানো দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া মহাসড়কে নিষিদ্ধ ধীরগতির যানবাহনের চলাচল এবং সড়কের নকশাগত ত্রুটিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও প্রকৌশলীরা। এসব সমস্যা চিহ্নিত হওয়ার পরও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও ২২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য, ‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক আয়োজন থাকলেও বাস্তবে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজের মতে, শুধু নির্দিষ্ট দিবসকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি পালন করলে সড়ক দুর্ঘটনার স্থায়ী সমাধান হবে না। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও প্রাণহানি কমাতে ধারাবাহিক, সমন্বিত এবং কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
নয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ হাজারের বেশি
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৪ হাজার ২৮৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪ হাজার ১৫৭ জন। আহত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ৩৯১ জন।
প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ জনের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিত করে নকশাগত ত্রুটি সংশোধন করা জরুরি।
২০১৯ সালে প্রণীত ১১১টি সুপারিশের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন বা প্রতিশ্রুতি নয়, তার কার্যকর প্রয়োগ ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে পরিকল্পিত উদ্যোগের পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে নিরাপদ সড়কের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসূচির পাশাপাশি বছরজুড়েই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।











