ধর্ম আলাদা, পরিচয় এক—আমরা বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক : ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিষয় হলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় এক।
মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দেশের মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করেই স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। সেদিন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—এমন কোনো বিভাজন সামনে আসেনি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও মানুষের ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য ছিল না। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি কোন ধর্মের, তা কেউ জানতে চাননি। তাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশেও ধর্মকে কেন্দ্র করে কোনো বিভেদ তৈরি হতে দেওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সবার দেশ। ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের সমানভাবে এ দেশের ওপর অধিকার রয়েছে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়তে তিনি সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি বনসাই গাছ উপহার দেওয়া হয়। মণ্ডপের উন্নয়নে তিনি ২০ লাখ টাকা অনুদান দেন।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সরাসরি পূজামণ্ডপে যান তিনি।











