এমবাপ্পের জোড়া গোলে সেভিয়াকে উড়িয়ে দিল রিয়াল
অনলাইন ডেস্ক :কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলের পাশাপাশি আরদা গুলের ও ইয়ান দিয়োমান্দের একটি করে গোলে সেভিয়াকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। রোববারের এ জয়ে স্প্যানিশ লিগের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে দলটি।
ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠলেও শাস্তি পাননি আরদা গুলের। পরে তাঁর অসাধারণ গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। এরপর এমবাপ্পের জোড়া গোল ও দিয়োমান্দের জোরালো শটে বড় জয় নিশ্চিত করে হোসে মরিনিওর দল। এ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় রিয়াল বেতিসকে পেছনে ফেলেছে তারা।
এমবাপ্পের প্রথম গোলটি ছিল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ভরপুর। সেভিয়ার বক্সের সামনে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে এগিয়ে গিয়ে নিখুঁত শটে জালে বল পাঠান ফরাসি তারকা। পরে পেনাল্টি থেকে পানেনকা কৌশলে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
এর আগে বেতিসকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপাধারী বার্সেলোনা রিয়ালের চেয়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে যায়। আগামী সপ্তাহে ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। পয়েন্ট তালিকায় তাদের মাঝখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশনকে মরিনিও বলেন, দল হিসেবে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। একসঙ্গে কাজ শুরু করার পর খুব বেশি সময় না গেলেও দল প্রতিনিয়ত উন্নতির চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। রিয়ালের মতো বড় ক্লাবে কাজের চাপ বেশি থাকলেও প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন বলেও উল্লেখ করেন এই কোচ।
নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে না পারা ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের পরিবর্তে বাঁ প্রান্তে দিয়োমান্দেকে খেলান মরিনিও। অন্যদিকে, মাঝমাঠের দায়িত্বে ছিলেন গুলের।
গত সপ্তাহে প্রতিপক্ষের চুল টেনে লাল কার্ড দেখেছিলেন ভিনিসিউস। ওই ঘটনা স্পেনের রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সমর্থকেরা লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ব্যানার প্রদর্শন করেন।
এর আগে তেবাস অভিযোগ করেছিলেন, রেফারিদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে রিয়াল মাদ্রিদ এমন কৌশল নিচ্ছে, যা নাৎসি প্রচারক জোসেফ গোয়েবলসের প্রচারণার সঙ্গে তুলনীয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে রিয়াল ও তাদের কোচ মরিনিও।
তবে রোববারের ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সেভিয়া। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে গুলেরের বিরুদ্ধে পেকে নামের এক খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। কিন্তু রেফারি তাঁকে কোনো কার্ড দেখাননি।
এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাজা বলেন, দুই দল সমানসংখ্যক খেলোয়াড় নিয়ে খেললে রিয়াল জয়ের যোগ্য ছিল। তবে তাঁর মতে, শাস্তি না দেওয়ার কারণে সেভিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে পয়েন্টের ব্যবধান কম রাখতেই গুলেরকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি বলে ধারণা প্রকাশ করেন সেভিয়া কোচ। অন্যদিকে, ঘটনাটির ভিডিও পুনরায় দেখেননি দাবি করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন মরিনিও।
ম্যাচের প্রথম দিকে রিয়ালের আক্রমণ সামাল দিয়ে ভালো লড়াই করেছিল সেভিয়া। তবে ৩০ মিনিটে গুলেরের অসাধারণ গোলে তাদের প্রতিরোধ ভেঙে যায়। জুড বেলিংহ্যামের বাড়ানো বল পেয়ে দিয়োমান্দে আক্রমণ গড়ে তোলেন। পরে বল পেয়ে বক্সের সামনে থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন তুরস্কের এই মিডফিল্ডার।
এরপর এমবাপ্পে দ্রুতগতির আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও প্রথম প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সেভিয়ার গোলরক্ষক। কিছুক্ষণ পর বেলিংহ্যামের গোড়ালি দিয়ে বাড়ানো বল পেয়ে বক্সে ঢুকে অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোল করেন এমবাপ্পে।
দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের ভেতরে আন্দ্রেস কাস্ত্রিনের সংস্পর্শে এমবাপ্পে পড়ে গেলে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। স্পটকিক থেকে পানেনকা কৌশলে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। চলতি লিগে এটি ফরাসি তারকার নবম গোল।
পরে ম্যানুয়েল বুয়েনোর গোলে ব্যবধান কমায় সেভিয়া। তবে ম্যাচে সমতা ফেরানোর মতো আর কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি। শেষ দিকে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে রিয়ালের ৪-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন আইভরি কোস্টের উইঙ্গার দিয়োমান্দে। গ্রীষ্মে আরবি লাইপজিগ থেকে যোগ দেওয়ার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল। আগামী চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে রিয়ালের প্রতিপক্ষও লাইপজিগ।
দিনের অন্য ম্যাচে মালাগাকে ৫-২ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল সোসিয়েদাদ। এ ছাড়া আলাভেসকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছে সেল্তা ভিগো এবং রেসিং সান্তান্দারকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ওসাসুনা।










