১ এপ্রিল থেকে জাপানে কর্মী নিয়োগ শুরু
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যে জাপানের সঙ্গে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করবে জাপান।
সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে ‘মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ (ইএসডিপি-এমওসি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। এরপর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর হবে। সব মিলিয়ে চুক্তিটির মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
এ সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুই দেশের মধ্যে কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ চুক্তি বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নত বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের মতো আইনি সুরক্ষা পাবেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা বা বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। এসব কারণে তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে বিনিময় করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য জাপানের শ্রমবাজারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।










