অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও গুলশান আরার ৪ দিনের রিমান্ড
অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া এবং লেফটেন্যান্ট গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শুনানির জন্য দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও গুলশান আরাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির আগে তাদের সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আসামিরা নিজেদের বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ, সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পলাতক কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কনটেন্ট প্রচার এবং ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে গুলশান আরার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন এবং এর সঙ্গে ১০১ জনের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগঠনটির মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর রাতে রাজধানীর দুটি পৃথক এলাকা থেকে দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।
তবে রিমান্ড আবেদনে আনা অভিযোগগুলো তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য; আদালতে এগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।











