জাতিসংঘে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরে অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
চার দিনের সফরে তিনি ৩০টির বেশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং বহুপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।
সফরের অন্যতম আলোচিত আয়োজন ছিল ওয়াল স্ট্রিটে একটি বিনিয়োগ গোলটেবিল বৈঠক। জেপি মরগানের সহযোগিতায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান কেনার বিষয়ে বাণিজ্যিক আলোচনা বাংলাদেশের পরিবহন ও অ্যারোস্পেস খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সংস্কার, আর্থিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক আস্থা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় আসে বলে জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তি ও জনস্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গেও আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তুরস্ক, ইরানসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া বক্তব্যে দেশ পুনর্গঠনের জন্য ‘৩-আর কৌশল’—পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের দাবিও তুলে ধরা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এবং ইউএনএইচসিআর-সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
সফরের বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তি, মানবাধিকার ও পরিবেশগত ভারসাম্যের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্র: প্রেসেনজা











