ইরানের প্রস্তাব ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান, বাড়ল তেলের দাম
অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কমাতে তেহরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়ায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠায়। তবে শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। যদিও রোববার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে পারেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো তীব্র। ইরান ও দেশটির মিত্র হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলার কারণে সৌদি আরবসহ এ অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনি জোটের দাবি, শনিবার ভোরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম সামান্য বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিতে পারে—এমন আশঙ্কা ওই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলছেন, পরিশোধিত জ্বালানি এখনো বাজারের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানিতে সম্ভাব্য বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যেতে পারে। এর প্রভাব ইউরোপেও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ রপ্তানি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়েও চলতি মাসে তেল পরিবহন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেপলারের হিসাবে, সেপ্টেম্বরে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে।
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার পর দেশটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে রপ্তানি কমিয়ে পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দর দিয়ে রপ্তানি বাড়িয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহনের পরিমাণও বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহনপথ ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারের অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর তেলের বাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।











