ব্রিটিশ ঘাঁটির কাছে ৫ গ্রেপ্তার, ‘বড় ক্ষতির’ দাবি ট্রাম্পের
অনলাইন ডেস্ক : ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ‘বড় ধরনের ক্ষতির’ পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী সন্দেহভাজনরা বড় ধরনের ক্ষতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে তাদের ওপর ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই নজর রাখছিল বলে জানান তিনি।
রোববার ভোরে তিনটি ভ্যান সামরিক ঘাঁটির দিকে যাওয়ার তথ্য পাওয়ার পর ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটক করে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা তারা কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনো প্রকাশ করেনি পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যকে সম্ভাব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার নাশকতামূলক তৎপরতা কিংবা ইসলামপন্থী কোনো ষড়যন্ত্রের বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর বিমানঘাঁটির চারপাশে ৪০০ মিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহজনক ভ্যানগুলো পরীক্ষা করেছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। কাছের একটি গ্রামের ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এলাকায় সশস্ত্র পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।
রোববার সকালে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় সশস্ত্র পুলিশ। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে মার্কিন ব্যবহৃত অন্যান্য সামরিক ঘাঁটিতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব ইংল্যান্ডের আরএএফ লেকেনহিথ ও আরএএফ মিলডেনহলের প্রবেশপথে সাঁজোয়া যান ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়।
মার্কিন বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্র ঘাঁটির নির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তবে তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে থাকা মার্কিন ও ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক কর্মী, ঠিকাদার এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সম্ভাব্য রুশ নাশকতা ও সাইবার হামলা নিয়েও ব্রিটিশ সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে এ ধরনের ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর অভিযোগ রাশিয়া অবশ্য অস্বীকার করে আসছে।
পুলিশ বলছে, পাঁচজনের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। তাদের উদ্দেশ্য এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।











