নবীনগরে পোস্টার নিয়ে সংঘর্ষ, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহতের ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টার লাগানো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটেরও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নবীনগর থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. ছাদির মিয়া। এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৩২৩, ৩২৫, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৮০ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার পূর্ব ইউনিয়নের বগডহর আলগা হাটি এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাদের মিয়ার ছেলে আওয়াল মিয়া ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়ে পোস্টার লাগান। কিছুক্ষণ পর একই গ্রামের বজু মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়াও একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন। পরে মিন্টু মিয়ার লোকজন আওয়ালের লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জেরে ২৪ সেপ্টেম্বর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর করা হয়। একটি বসতঘর থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় বাধা দিতে গেলে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ফারজানা (২৩)-এর পেটে আঘাত ও লাথি মারা হয়। পরে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। ফারজানাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মরিয়ম (২৬) নামে আরেক নারীকে মারধর করে তাঁর হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে আহত অন্যরা হলেন—শামসুন্নাহার (৩০), ছাদির মিয়া (৩২) ও রোজিনা। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত ফারজানাসহ দুজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, একই ঘটনায় আবু মিয়ার মুদির দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানের ক্যাশ বাক্স থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং হামলায় প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মিন্টু মিয়া, চাঁন বাদশা, ফুল মিয়া, বজু মিয়া, সামেত মিয়া, দুধ মিয়া, শিল্পী বেগম, মদন মিয়া, আক্কাস মিয়া, বাচ্চু মিয়াসহ ১১ জন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।











