ডালের বিক্রি কম, পরিবহন খরচে বাড়ছে দামের শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক : চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ডালের বেচাকেনা কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারে চাহিদা কম থাকায় বিক্রির পরিমাণ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নেমেছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দূরপাল্লার পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সামনে ডালের দামে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় চিকন মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১৫২ টাকা, মোটা মসুর ৮১ টাকা, মুগডাল ১১৫ টাকা, চনার ডাল ৯৭ টাকা এবং মটর ডাল ৫৩ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মান ও ধরন অনুযায়ী চুলা ডালের দাম কেজিতে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯৪ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা কম থাকায় আড়তগুলোতে আগের মতো বেচাকেনা হচ্ছে না। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দূরবর্তী এলাকা থেকে পণ্য আনার খরচও বেড়েছে।
চাক্তাইয়ের মেসার্স গৌর নিতাই ভাণ্ডারের ব্যবসায়ী নয়ন সওদাগর বলেন, বর্তমানে ডালের চাহিদা খুবই কম। গত দুই থেকে তিন মাসের তুলনায় তাদের বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এহসান উল্লাহ জাহেদী জানান, ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ ইতোমধ্যে বেড়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর থেকে চট্টগ্রামে একটি পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া আগে প্রায় ২৫ হাজার টাকা থাকলেও এখন ৩৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবহন ব্যয় প্রায় ৯ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। দূরের জেলা থেকে ডালসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে আনতে এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব ধীরে ধীরে পণ্যের দামে পড়তে পারে।
চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বাবু সঞ্জয় দেব থোকন বলেন, বর্তমানে ডালের চাহিদা কম থাকলেও পরিবহন খরচ বাড়লে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয়ও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ের দামে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ডালের দাম নির্ধারণে আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, পরিবহন খরচ এবং বাজারের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে চাহিদা কম থাকলেও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগামী দিনে পাইকারি বাজারে দামের কী ধরনের পরিবর্তন হয়, সেটিই এখন নজরে রয়েছে।











