ভারতের সিইসিকে ঘিরে বিতর্ক, পদত্যাগের দাবি
অনলাইন ডেস্ক : ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধী দলগুলো তার পদত্যাগ দাবি করেছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) স্থগিত, আগের তালিকা পুনর্বহাল এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীকে না জানিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একটি ঘটনায় দুই কমিশনার সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে তারা নিজেরা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা উন্নয়নের বিষয়ে মতামত দেওয়ার অধিকার রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসিআই।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, গত এক বছরে প্রায় ৪০টি নতুন উদ্যোগ ও নির্বাচনী সংস্কার নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর রয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, এসব সিদ্ধান্ত পূর্ণাঙ্গ কমিশনের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২৫ বছর পর বড় পরিসরে ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মৃত, দেশত্যাগী, একাধিক জায়গায় নিবন্ধিত ও অন্যান্য কারণে অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদ করাই এর উদ্দেশ্য বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সমর্থকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর রাজনৈতিক সুবিধা ক্ষমতাসীন বিজেপি পেতে পারে বলেও তারা দাবি করছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অনেক ভোটার তাদের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। নতুন করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তার অভিযোগ, ভোটার তালিকা ও এসআইআর নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন।
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি এসআইআর শুরুর আগের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের দাবি করেন। তৃণমূলের দাবি, এসআইআরের কারণে রাজ্যটিতে অন্তত ২৭ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অপপ্রচার হিসেবে অভিহিত করেছে এবং জ্ঞানেশ কুমারের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, কমিশনের ভেতরে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং বিরোধীদের অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে সিইসির পদত্যাগ দাবি করেছে। দলটি জানিয়েছে, পদত্যাগ না হলে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তদন্ত, এসআইআর স্থগিত করে ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং এসআইআর নিয়ে তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন।











