,

উন্নয়নকাজে জনভোগান্তি কমাতে কঠোর নির্দেশ

news-image

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের কারণে যানজট ও জনভোগান্তি কমাতে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যস্ত সড়কে দিনের পরিবর্তে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত উন্নয়নকাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুক্র ও শনিবার অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে চিঠি দিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাস্তা খননের আগে প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী নিশ্চিত করতে হবে এবং খনন করা স্থান দীর্ঘদিন ফেলে রাখা যাবে না। চলাচলের লেন, ফুটপাত কিংবা সড়কে বালু ও নির্মাণসামগ্রী রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে কাজের এলাকায় ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার কংক্রিট বা স্টিলের ব্যারিয়ার রাখার পাশাপাশি রাতে দৃশ্যমান লাল বাতি ও প্রতিফলকযুক্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে।
উন্নয়নকাজ শুরুর আগে ট্রাফিক ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (টিআইএ) ও ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (টিএমপি) অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে এবং তা মেনে চলতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে সংশ্লিষ্ট ১৩টি সরকারি সংস্থাকে নিয়ে নিয়মিত সভার সিদ্ধান্তও হয়েছে। প্রতি মাসে দুইবার প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বায়ক করে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা ওয়াসা, তিতাস গ্যাস, ডিএমটিসিএল, বিটিসিএল ও রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বাড্ডা ও প্রগতি সরণিতে ওয়াসার কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার, বিমানবন্দর ফ্লাইওভারের আশপাশ থেকে নির্মাণসামগ্রী সরানো এবং দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সড়ক খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়নকাজের সময় ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে শুষ্ক মৌসুমে দিনে দুই থেকে তিনবার পানি ছিটাতে হবে। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইনও মানতে হবে। ড্রেন ও ফুটপাতের ওপর প্রয়োজন অনুযায়ী স্টিল প্লেট বসিয়ে ছোট যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট চিহ্নিত করে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ, ডিএমপি ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে অবৈধভাবে পরিচালিত কারখানা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিদ্যমান নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি। তাঁর মতে, রাতে উন্নয়নকাজ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে, তবে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।

 

এ জাতীয় আরও খবর