সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অনলাইন ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ হওয়ায় দেশটির মানুষের জীবন ও অর্থনীতি নদী ও উপকূলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশ্বব্যাংকের হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের বসতবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি বাড়ানো এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় বিনিয়োগ করছে। আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুদের জন্য পদ্মা ব্যারেজ উদ্যোগ, তিস্তা ব্যারেজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ সবুজ প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, সবুজ শিল্প, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, জাতীয় কার্বন বাজার এবং বন ও জলাভূমি সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রভাব শুধু অভিযোজনমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি।
এ জন্য তিনি চারটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন—বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত ও ন্যায়সংগতভাবে কমানো, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমে সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে, তাই জলবায়ু মোকাবিলায় বিশ্বের দেশগুলোর উদ্যোগও আরও দ্রুত ও কার্যকর হতে হবে। কোনো দেশ যেন একা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিণতির মুখোমুখি না হয়, সে জন্য সম্মিলিতভাবে ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।











