ছেলেকে জিম্মি করে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ৩ আসামির বাড়িতে আগুন
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ছেলেকে জিম্মি করে এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামিদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি ও আকন্দপাড়া এলাকায় তিন আসামির বাড়ির চারটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
এর আগে, এদিন সকালে মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও এনামুলের (২২) বাড়িতে আগুন দেয়। এতে আসবাবসহ চারটি ঘর পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে যায় পাঁচ যুবক। সেখানে থাকা তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে, নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কাছে পানি চায় তারা। ওই কিশোর পানি নিয়ে দরজার কাছে গেলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জিম্মি করা হয়। পরে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের এক নারী সদস্যকে জিম্মি করার পর ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায় তারা। এরপর ওই নারীকে তার ছেলের সামনে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পরদিন রাতে ওই নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলায় চর কালিবাড়ি এলাকার শরীফ (২৩), আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজিব (২৩) ও আকন্দপাড়ার এনামুলকে (২২) আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের একজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা প্রকাশ করলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আসামি রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’











