,

গাজায় নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড: গুতেরেস

news-image

অনলাইন ডেস্ক : গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের অন্য সংকটের কারণে গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন গুতেরেস। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, তার দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বহু যুদ্ধ ও সংকট প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে গাজায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর মাত্রা তাকে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন গুতেরেস। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে ইউক্রেন দীর্ঘ ও কঠিন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
গুতেরেস বলেন, শুধু সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তির মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। শক্তিকে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির কাঠামোর মধ্যে পরিচালনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বলপ্রয়োগকে চূড়ান্ত উপায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্বব্যাপী ক্ষমতার পরিবর্তনশীল কাঠামো নিয়েও সতর্ক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তার মতে, নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিকেন্দ্রের উত্থান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উন্নত প্রযুক্তির প্রসার—এই তিনটি প্রবণতা বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির বিকাশের ফলে মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের কাছেও ক্ষমতা স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এসব দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়।
গুতেরেসের ভাষায়, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সংকটগুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এবং এর কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বে ক্ষমতা কার হাতে রয়েছে ও কীভাবে সেই ক্ষমতা ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন প্রশ্ন।
সূত্র: আল জাজিরা

 

এ জাতীয় আরও খবর