,

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় ফ্রান্স

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ফ্রান্স আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-চারলেট। অর্থনীতি, জলবায়ু, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের কাজ করার বড় সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) আয়োজনে ‘ডিক্যাব টক’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত বাড়ছে এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার পরিসরও সংকুচিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সংলাপ, বহুপক্ষীয়তা ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার একটি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও ইউরোপীয় একীকরণের মূল লক্ষ্য সংলাপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি ফ্রান্সের অঙ্গীকার বজায় রাখাই ছিল এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বহুপক্ষীয়তা ও শান্তিপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ফ্রান্স ভারসাম্যপূর্ণ একটি অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যেন নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে পারে, সে লক্ষ্যেই অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে ফ্রান্স।

ভারত মহাসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রদূত। অবৈধ মাছ শিকার, জলদস্যুতা ও চোরাচালানের মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সাড়ে চার বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তবে বাণিজ্যে কাঠামোগত ভারসাম্যহীনতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক ও অন্যান্য টেক্সটাইল পণ্য। পাশাপাশি বিমান চলাচল, প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন খাতেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

ভবিষ্যতে ওষুধ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের সঙ্গে অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা জানান ফরাসি রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার তহবিলের বড় অংশ জলবায়ু সহনশীলতা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশেও সবুজ ও টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা বাড়াতে চায় ফ্রান্স।

নারীর অধিকার ও জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রেও ফ্রান্সের নীতির কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। শিক্ষা, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রজনন অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সম্পর্কের সামনে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, সহযোগিতা ও অভিন্ন মূল্যবোধকে সামনে রেখে দুই দেশের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো সম্ভব।