ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আলোচনায় শামারুহ ও ফয়সল
অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে আসনটি শূন্য হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই দিন থেকেই তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হিসেবে গণ্য হয়েছে।
আসনটি শূন্য হওয়ার পর এখন উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা শুরু হয়েছে। মির্জা পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা হবে, নাকি দলের অন্য কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে—এ নিয়েই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুলের ছেড়ে দেওয়া আসনে তার ভাইয়ের চেয়ে মেয়ে ডা. শামারুহ মির্জার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনের নামও শক্তভাবে আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় না থাকলেও ঠাকুরগাঁওয়ে শামারুহ মির্জার পরিচিতি রয়েছে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে। করোনাকালসহ বিভিন্ন সময়ে অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা ও সহায়তায় তার সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে। নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সচেতনতা নিয়েও তিনি কাজ করেছেন।
স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ মনে করছে, শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করা হলে দলের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব সামনে আসবে। একই সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে মির্জা ফয়সল আমিনের পক্ষেও রয়েছে শক্ত সমর্থন। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র। জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করে, মাঠপর্যায়ে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা উপনির্বাচনে বিএনপির জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে।
জেলা বিএনপির নেতারা বলছেন, শামারুহ মির্জা ও ফয়সল আমিন—দুজনেরই স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দল যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানান, প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মির্জা পরিবারের দুই সদস্যের নামই আলোচনায় রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশ শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করার প্রত্যাশা প্রকাশ করছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটের হিসাবেও তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার এবং তরুণ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৭ জন। ফলে উপনির্বাচনে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের অবস্থান ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পরই ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পরিষ্কার হবে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয় পান। তবে ২০০৮ সালের পর আসনটি বিএনপির নিয়ন্ত্রণে ছিল না। অতীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
এখন মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার পাশাপাশি আসনটি পুনর্দখলে বিএনপি কাকে সামনে আনে, সেদিকেই নজর স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের। শামারুহ মির্জা নাকি ফয়সল আমিন—শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের সিদ্ধান্তেই মিলবে সেই প্রশ্নের উত্তর।











