বাংলাদেশের কাছে হারে অজুহাত নেই: কামিন্স
অনলাইন ডেস্ক : ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর কোনো অজুহাত দেখাতে চাননি অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। একই সঙ্গে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।
চতুর্থ দিনের মধ্যাহ্নভোজের পর দ্রুতই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে স্বাগতিকদের ওপর আধিপত্য ধরে রাখে টাইগাররা। টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তও ম্যাচ শেষে আলোচনায় এসেছে। প্রথম দিনে বোলারদের জন্য কিছুটা সহায়ক থাকা উইকেটে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়। জবাবে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান।
ম্যাচ শেষে কামিন্স বলেন, দলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না। বরং প্রস্তুতি ভালো হওয়ার পরও বাংলাদেশ তাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। প্রথম দিনের উইকেটে কিছুটা সহায়তা থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা যথেষ্ট সময় ধরে ব্যাট করতে পারেননি এবং পরে বোলাররাও বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের মতে, ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—সব বিভাগেই বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল। একবার ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড ও মার্নাস লাবুশেনের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওয়েদারাল্ড দুই ইনিংসে করেন ২৩ ও শূন্য রান। লাবুশেন দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো শুরু করলেও সেটিকে বড় রানে পরিণত করতে পারেননি।
দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলে পরিবর্তন আসতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কামিন্স জানান, ম্যাচ শেষে দল নিয়ে পর্যালোচনা করা স্বাভাবিক। খেলোয়াড়দের ভূমিকা ও দলের সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অস্ট্রেলিয়ার রয়েছে উল্লেখ করে কামিন্স বলেন, দলের ব্যাটার ও অন্যান্য বিভাগ একসঙ্গে বসে এই ম্যাচের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করবে এবং কোথায় উন্নতি করা যায়, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে উজ্জ্বল ছিলেন জশ হ্যাজলউড ও ক্যামেরন গ্রিন। প্রথম ইনিংসে ৮৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন হ্যাজলউড। আর গ্রিন দেশের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন।
হ্যাজলউডের প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, চোটের কারণে গত কয়েক বছরে নিয়মিত খেলতে না পারলেও কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন এই পেসার। পেসারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা না থাকা উইকেটেও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
ক্যামেরন গ্রিনের ব্যাটিংয়েও মুগ্ধ কামিন্স। তার মতে, ইনিংসে গ্রিন যেভাবে ব্যাটিংয়ের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, তাতে তার সামর্থ্য স্পষ্ট হয়েছে। তবে অন্য প্রান্তে আরও কয়েকজন ব্যাটার কিছুক্ষণ টিকে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং অবশ্য দ্বিতীয় টেস্টের আগে দলে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার দলে পুনর্গঠন শুরু করার উপযুক্ত সময় এসেছে। নতুন কোনো ওপেনার কিংবা তিন নম্বরে নতুন ব্যাটারকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।











