অনলাইন ডেস্ক |: ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিং করে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন হাসান মাহমুদ। তার জোড়া আঘাতে দ্বিতীয় ইনিংসে চাপে পড়েছে স্বাগতিকরা। চা বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ উইকেটে ৫১ রান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের তুলনায় এখনো ১৭৭ রানে পিছিয়ে তারা।
এর আগে দিনের প্রথম সেশনে ৪২৬ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রান করায় ২২৮ রানের বড় লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেন হাসান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মাত্র তিন বল মোকাবিলা করে কোনো রান না করেই ফেরেন জেক ওয়েদারাল্ড। বাইরে বেরিয়ে যাওয়া বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত করে।
অন্যপ্রান্তে তাসকিন আহমেদও ধারাবাহিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন। মারনাস লাবুশেনের বিপক্ষে একাধিকবার জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
ষষ্ঠ ওভারে হাসানের বলে দুটি বাউন্ডারি হাঁকান ট্রাভিস হেড। তবে পরের ওভারেই ঘুরে দাঁড়ান হাসান। ওয়েদারাল্ডের মতো হেডও ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে নিজের স্টাম্পে টেনে আনেন। আউট হওয়ার পর হেড নিজেই পড়ে যাওয়া বেলটি তুলে আবার স্টাম্পের ওপর বসিয়ে দেন।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বড় ভূমিকা রাখেন জশ হ্যাজলউড। তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের চারটি উইকেটই নেন তিনি। ৮৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করার পাশাপাশি টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন হ্যাজলউড। অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস চলে ১৩৮ ওভার। গত সাত বছরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী দলের এটিই দীর্ঘতম ইনিংস। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে বাংলাদেশের ব্যাটাররা অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ক্লান্ত করে দেন।
দ্বিতীয় দিনে তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরির সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের অর্ধশতক বাংলাদেশকে বড় লিডের ভিত্তি এনে দেয়। শেষ দিকে মেহেদী নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে দলীয় সংগ্রহ আরও বাড়ান।
দ্বিতীয় দিনের শেষদিকে দ্রুত তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পর মেহেদীর সঙ্গে জুটি গড়েন হাসান মাহমুদ, তাসকিন ও তাইজুল। শেষ চার উইকেটে ৫২.৩ ওভার ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখে বাংলাদেশ।
তৃতীয় দিনের শুরুতেও ব্যাট হাতে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মেহেদী। তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন। পরে ক্যামেরন গ্রিনকে হুক করে ছক্কা হাঁকিয়ে প্রথম সেশন শেষ করেন। হাসান, তাইজুল ও তাসকিনও নিচের দিকে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডিং দুর্বলতাও বাংলাদেশের বড় লিড পাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে। স্বাগতিকরা মোট পাঁচটি ক্যাচ মিস করে। তাসকিনের বলে স্টিভেন স্মিথ সহজ ক্যাচ ফেলে দেন। পরে মেহেদীর ক্যাচও নিতে ব্যর্থ হন ট্রাভিস হেড।
তৃতীয় দিনের শুরুতে হ্যাজলউডের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন হাসান মাহমুদ। ৯২ বল খেলে ২ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ক্রিজে ছিলেন তিনি। মেহেদীর সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪৬ রানের জুটিতে তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর হ্যাজলউডের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তাইজুল ইসলাম। ২৩ বলের ইনিংসে ফেরার আগে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে একটি ছক্কাও হাঁকান তিনি।
বাংলাদেশের বড় লিডের পর বল হাতেও দারুণ শুরু করেছে দলটি। হাসানের জোড়া আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট তুলে নিতে পারলে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।