বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সরকার ও বিএনপিতে রদবদলের আলোচনা

news-image

অনলাইন ডেস্ক : আগামী সেপ্টেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সরকার ও ক্ষমতাসীন বিএনপির অভ্যন্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে মন্ত্রিসভা, সংসদ এবং বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন আসতে পারে।

সম্ভাব্য পরিবর্তনের মধ্যে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, দলের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এবং শূন্য আসনে উপনির্বাচনের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সংশ্লিষ্ট সব সিদ্ধান্ত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। দলের পক্ষ থেকে এমন একজনকে রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, যিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম এবং দলের আস্থাভাজন।

দলীয় সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদে এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে না, যিনি সরকার বা দলের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সিদ্ধান্ত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে।

রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনায় কয়েকজনের নাম ঘুরছে। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিএনপির মহাসচিব পদ এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। ড. আবদুল মঈন খান রাষ্ট্রপতি হলে তার সংসদীয় আসন ও দলীয় পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি হলে স্পিকার পদেও পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে মন্ত্রিসভায়ও রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকজন নতুন সদস্য যুক্ত হতে পারেন বলে জানা গেছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিক, তরুণ সংসদ সদস্য এবং টেকনোক্র্যাটদের মধ্যে কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা মনে করছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে মহাসচিব পদে পরিবর্তন হলে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

দলটির নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বজনগ্রহণযোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই গুরুত্ব দেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি দলীয় আলোচনা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

এ জাতীয় আরও খবর