গ্যাস সংকটে দুর্ভোগে রাজধানীবাসী, চুলা ও সিএনজি দুই-ই বিপাকে
অনলাইন ডেস্ক : এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও অগ্নিকাণ্ডের কারণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।
গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল পর্যন্ত ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, রায়েরবাজার, যাত্রাবাড়ী ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের সরবরাহ থাকছে না। অনেক সময় গভীর রাত বা ভোরে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও স্বাভাবিক রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারা জানান, আগে অল্প সময়ে রান্নার কাজ শেষ হলেও এখন গ্যাসের চাপ কম থাকায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে শিশুদের স্কুলে পাঠানো ও কর্মজীবী পরিবারের সদস্যদের জন্য সময়মতো খাবার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনছে। কেউ কেউ অতিরিক্ত খরচ করে বৈদ্যুতিক চুলা বা এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছেন।
রায়েরবাজারের এক বাসিন্দা জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে রান্না ২০ মিনিটে শেষ হতো, কম গ্যাসের চাপে তা করতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। মাসের শেষ দিকে অতিরিক্ত খরচ করে সিলিন্ডার কেনাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবাসিক এলাকার পাশাপাশি সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। গ্যাসের স্বল্প সরবরাহের কারণে স্টেশনগুলোর সামনে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তাদের আয় কমে গেছে। অনেকে দিনের বড় একটি অংশ গ্যাসের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিচ্ছেন।
এক সিএনজি চালক বলেন, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সীমিত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সারাদিনের আয়ের বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্যাস স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, কখন সরবরাহ আসবে তার নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। অনেক সময় রাত বা ভোরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যার কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জ্বালানি সংকট সমাধানে সহযোগিতা চেয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।











