ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ
আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জুলাই ২৮, ২০২৬
অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বিশেষ করে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবারের বৈঠকে ইরান যুদ্ধই প্রধান আলোচনার বিষয় হতে পারে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি গাজা পরিস্থিতি, লেবাননের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের পর দুই নেতার এটিই প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। এর আগে যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করেছেন তারা।
নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে বলেন, আলোচনার তালিকায় থাকা সব বিষয় নিয়েই কথা হবে। তবে এর মধ্যে ইরান ইস্যু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তি সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে এটি হবে গত বছর ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর অষ্টম বৈঠক। এর আগে যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনাও করেছিলেন। তবে নেতানিয়াহু এটিকে কৌশলগত মতপার্থক্য হিসেবে উল্লেখ করে জানান, দুই দেশের মূল লক্ষ্য একই।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠন এবং চলমান মানবিক সংকট নিয়েও কথা উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া বিভাজনের ধারণা দূর করা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে মিলের দিকই বেশি।
তাদের ধারণা, ট্রাম্পের অগ্রাধিকারে থাকবে ইরান ইস্যু এবং আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ। অন্যদিকে গাজা ইস্যুও আলোচনায় থাকলেও তা তুলনামূলক কম গুরুত্ব পেতে পারে।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন সামনে। ২০২৩ সালের হামাস হামলা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা থাকায় তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপ রয়েছে।