অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জাতীয় অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তার দাবি, রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে শামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তার অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কাউকে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় দেখা দিতে পারে।
জামায়াত অবিলম্বে ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেছে, বিষয়টির সমাধান না হলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।