শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত
অনলাইন ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন করে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। থার্ড টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বেবিচক সূত্র জানায়, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ও যাত্রী চলাচল সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে। প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মিলিয়ে গড়ে প্রায় ৩১৬টি উড়োজাহাজ ওঠানামা করছে। এ কারণে বিমানবন্দরের রানওয়ে, টার্মিনাল, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে ৩৮টি এয়ারলাইন্সকে চিঠি দিয়েছে বেবিচক। চিঠিতে বলা হয়েছে, যেসব বিদেশি এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশে নিজস্ব অপারেশনাল বেস নেই, তাদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত সময়সূচি ও ফ্রিকোয়েন্সির বাইরে অতিরিক্ত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হবে না।
বেবিচক আরও জানিয়েছে, কোনো এয়ারলাইন্স আগে স্লট বরাদ্দ পেলেও তা চূড়ান্ত পরিচালন অনুমোদন হিসেবে বিবেচিত হবে না। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী এয়ারলাইন্সগুলো চাইলে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে।
বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানান, শাহজালালে বর্তমানে সক্ষমতার তুলনায় বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে অতিরিক্ত ফ্লাইটের অনুমোদন বন্ধ রাখা হয়েছে। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে এবং তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে।
বর্তমানে শাহজালালে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী, ১২৫ থেকে ১৪০টি অভ্যন্তরীণ এবং ১০ থেকে ১৬টি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার চলাচলও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যস্ত সময়ে একসঙ্গে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার কারণে টার্মিনালে দীর্ঘ লাইন, যাত্রীজট এবং সেবা দিতে বিলম্বের ঘটনা বাড়ছে। এতে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, নিরাপত্তা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের ওপরও চাপ বেড়েছে।
ঢাকার বিমানবন্দরের চাপ কমাতে অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বেবিচক। এতে রাজধানীকেন্দ্রিক চাপ কমার পাশাপাশি দেশের আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহারও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।











