এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক : ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থার পর এবার গৃহিণীদের জন্য এলপিজি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য ডিজেল ভর্তুকি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লক্ষ্যভিত্তিকভাবে ভর্তুকির সুবিধা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
এ জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। গত ২৬ জুলাই সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে চিঠি দেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
জানা গেছে, নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের গৃহিণীদের ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি সরবরাহ এবং কৃষকদের ডিজেল ব্যবহারে সরাসরি সহায়তা দিতে পৃথক দুটি কার্ড চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তথ্যভাণ্ডার ও ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি) পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি ভর্তুকি সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য সমন্বিত ডেটাবেজ এবং ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
প্রস্তাবিত এলপিজি কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত পরিবারের গৃহিণীরা এলপিজি সিলিন্ডার কেনার ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা পাবেন। এতে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কৃষকদের জন্য ডিজেল ভর্তুকি কার্ড চালু হলে সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলের খরচ কমানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরাসরি ভর্তুকি পৌঁছানো যাবে এবং অপব্যবহার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে বলে মনে করছে সরকার।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা আলাদাভাবে সুবিধাভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ করে। এতে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সমস্যা সমাধানে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, ই-কেওয়াইসি ও অন্যান্য তথ্য সমন্বয় করে একটি কেন্দ্রীয় ফ্যামিলি কার্ড প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জ্বালানি ভর্তুকি এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ কারিগরি কমিটি (জেটিডব্লিউজি) গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বর্তমানে সরকার টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড, স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র, কৃষি সহায়তা কার্ড, জেলে নিবন্ধন কার্ড, প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র ও মুক্তিযোদ্ধা স্মার্ট পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন ধরনের কার্ডের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। নতুন এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকি কার্ড চালু হলে জ্বালানি খাতে ডিজিটালভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো যুক্ত হবে।











